কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরছে ছাত্রভোট, শিক্ষা ক্ষেত্রে বড় বদলের বার্তা সজলের
রাজ্যের শাসনক্ষমতায় পালাবদলের পর এবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল। প্রায় এক দশক ধরে বন্ধ থাকা কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন দ্রুত চালু করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে নতুন সরকারের পক্ষ থেকে। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত একটি শিক্ষা মেলায় অংশ নিয়ে বরানগরের বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই সমস্ত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রভোটের আয়োজন করা হবে।
নির্বাচন বন্ধের কারণ ও নতুন সম্ভাবনা
পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে রাজ্যের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে করোনা অতিমারি এবং আইনশৃঙ্খলার দোহাই দেওয়া হলেও, বিরোধীদের অভিযোগ ছিল ভিন্ন। বিধায়ক সজল ঘোষের দাবি, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও এক গোষ্ঠীর সঙ্গে অন্য গোষ্ঠীর সংঘাতের কারণেই এতদিন নির্বাচন করানো হয়নি। তবে নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই অচলাবস্থার অবসান ঘটতে চলেছে। ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরায় চালু করবে বলে জানানো হয়েছে।
সিলেবাস সংস্কার ও আর্থিক অনিয়মের তদন্ত
ছাত্রভোটের পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের রূপরেখা তৈরি করছে নতুন প্রশাসন। পূর্বতন মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদসহ পুরনো সংগঠনগুলো ইতিমধ্যেই ভেঙে দেওয়া হয়েছে। স্কুলের পাঠ্যক্রম থেকে সিঙ্গুর আন্দোলন এবং মোগল আমলের ‘বিকৃত’ ইতিহাস বাদ দেওয়ার জোর সওয়াল করা হয়েছে। এর পাশাপাশি কলেজগুলোতে পেশামুখী কোর্স চালুর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে বিগত সরকারের আমলের আর্থিক অনিয়মের খতিয়ানও সামনে আনা হচ্ছে। সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ছাত্র সংসদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা জমা থাকার প্রসঙ্গ টেনে বর্তমান শাসক দল অভিযোগ করেছে, সাধারণ তহবিলের টাকা না থাকলেও ছাত্র সংসদের নামে বিপুল অর্থের কালোবাজারি চলেছে। এই সমস্ত অনিয়ম দূর করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই এখন নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য।