হচ্ছে হবে নয়, বেহালা বিদ্যাসাগর হাসপাতালের হাল ফেরাতে অ্যাকশনে বিধায়ক ইন্দ্রনীল খাঁ
পশ্চিম কলকাতার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা কেন্দ্র বেহালা বিদ্যাসাগর হাসপাতাল। ডায়মন্ড হারবার রোডের পাশে অবস্থিত হওয়ায় এই হাসপাতালের ওপর সাধারণ মানুষের নির্ভরতা প্রচুর। তবে দীর্ঘ দিন ধরেই এই হাসপাতালের বেহাল দশা এবং অপর্যাপ্ত পরিকাঠামো নিয়ে ক্ষোভ জমছিল সাধারণ মানুষের মনে। সেই ক্ষোভ ও অভিযোগের বাস্তব চিত্র খতিয়ে দেখতেই শনিবার বেহালা পশ্চিমের নবনিযুক্ত চিকিৎসক বিধায়ক ডাঃ ইন্দ্রনীল খাঁ আচমকা হাজির হন বিদ্যাসাগর হাসপাতালে। সেখানে তিনি হাসপাতালের সুপার ডাঃ অতসী মণ্ডলের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন এবং পরিকাঠামোগত খামতিগুলো চিহ্নিত করার নির্দেশ দেন।
১৫ বছরের বঞ্চনা ও বেহাল পরিকাঠামো
বিদ্যাসাগর হাসপাতালকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দা এবং রোগীদের ভূরি ভূরি অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, গত ১৫ বছরেও এই হাসপাতালে কোনো নবজাতক কেয়ার ইউনিট (এসএনসিইউ) তৈরি করা সম্ভব হয়নি। কর্মিসংখ্যা অত্যন্ত অপ্রতুল, পুরো হাসপাতালে সার্জন রয়েছেন মেরেকেটে মাত্র একজন। এছাড়াও, ডায়মন্ড হারবার রোডের মতো দুর্ঘটনাপ্রবণ রাস্তার ধারে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও এখানে কোনো ট্রমা কেয়ার ইউনিট নেই। ফলে পথ দুর্ঘটনায় আহত কোনো রোগী এলে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তড়িঘড়ি অন্যত্র রেফার করে দেওয়া হয়। বিধায়ক ইন্দ্রনীল খাঁ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে, বিগত পনেরো বছরে হাসপাতালে কাজের কাজ কিছু না হয়ে শুধু নীল-সাদা রং হয়েছে, আর রোগীরা এখানে এলে রেফার হয়ে যাচ্ছে। হাসপাতালের এই সমস্ত অভাব-অভিযোগের তালিকা লিখিত আকারে সুপারের কাছ থেকে চেয়ে পাঠিয়েছেন বিধায়ক।
সমাধানের লক্ষ্যে সোমবারে স্বাস্থ্যভবনে মেগা বৈঠক
রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে বুলেট ট্রেনের গতিতে উন্নত করতে এবং ‘রেফার রোগ’ ও দালাল চক্র ঠেকাতে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে নতুন সরকার। গত শুক্রবারই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এসএসকেএম হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছিলেন। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিদ্যাসাগর হাসপাতালে বিধায়কের এই পরিদর্শন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। হাসপাতাল সূত্রে খবর, বিদ্যাসাগর হাসপাতালের যাবতীয় সমস্যার খতিয়ান নিয়ে আগামী সোমবার স্বাস্থ্যভবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছেন চিকিৎসক বিধায়করা। যেখানে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্যদপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। কোন হাসপাতালে অবিলম্বে কী কী পরিকাঠামো প্রয়োজন, তা এই বৈঠকে সরাসরি স্বাস্থ্য অধিকর্তাকে জানানো হবে এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের রূপরেখা তৈরি হবে।