টি-২০ ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথমবার, ইডেনে নাইটদের ম্যাচে বিরল বিশ্বরেকর্ড
ক্রিকেটপ্রেমীদের স্তব্ধ করে ইডেন গার্ডেন্সে রচিত হলো এক অবিশ্বাস্য ইতিহাস। শনিবার কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম গুজরাত টাইটান্সের ব্লকবাস্টার ম্যাচটি এমন এক দুর্লভ নজির গড়ল, যা বিশ্ব ক্রিকেটের বিগত ১৬ হাজার ৭৭৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ইতিহাসে কখনও ঘটেনি। বোলারদের শাসন করে দুই দলের ব্যাটাররা মিলে উপহার দিলেন চার-ছক্কার এক অবিস্মরণীয় প্রদর্শনী।
ছয় অর্ধশতরানের মহাকাব্যিক নজির
ইতিহাসের পাতায় এই ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে এক অনন্য ব্যাটিং রেকর্ডের কারণে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের দীর্ঘ পথচলায় এই প্রথমবার কোনো একটি নির্দিষ্ট ম্যাচে দুই দলের মোট ছ’জন ব্যাটার অর্ধশতরান করার কৃতিত্ব অর্জন করলেন। কলকাতার ইডেনে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ফিন অ্যালেনের বিধ্বংসী ৯৩, অঙ্গকৃষ রঘুবংশীর অপরাজিত ৮২ এবং ক্যামেরন গ্রিনের অপরাজিত ৫২ রানের ওপর ভর করে স্কোরবোর্ডে ২৪৭ রানের পাহাড় গড়ে কেকেআর। জবাবে রান তাড়া করতে নেমে গুজরাতের হয়েও পাল্টা লড়াই চালান তিন ব্যাটার। শুভমন গিলের ৮৫, জস বাটলারের ৫৭ এবং সাই সুদর্শনের অপরাজিত ৫৩ রানের ইনিংসের সৌজন্যে গুজরাত ২১৮ রান পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয়। দুই ইনিংস মিলিয়ে এই হাফসেঞ্চুরির ফুলঝুরি বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে এর আগে আর কখনও দেখা যায়নি।
সুদর্শনের বিশ্বরেকর্ড ও প্লেঅফের লড়াই
এই ঐতিহাসিক ম্যাচেই ব্যক্তিগত স্তরে এক দুর্দান্ত মাইলফলক স্পর্শ করেছেন গুজরাত টাইটান্সের সাই সুদর্শন। মাত্র ৭৮টি ইনিংসে ৩০০০ টি-টোয়েন্টি রান পূর্ণ করে বিশ্বের দ্রুততম ক্রিকেটার হিসেবে শন মার্শের (৮৫ ইনিংস) দীর্ঘদিনের রেকর্ডটি ভেঙে দিয়েছেন তিনি। ম্যাচে বোলারদের চূড়ান্ত ব্যর্থতা স্পষ্ট হলেও ইডেনের পাটা উইকেটে ব্যাটারদের এই দাপট ক্রিকেট ইতিহাসের গতিপ্রকৃতি বদলে দিয়েছে। গুজরাত টাইটান্সকে ২৯ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টের প্লেঅফের লড়াইয়ে নিজেদের টিকিয়ে রাখল কলকাতা নাইট রাইডার্স। এই জয়ের ফলে ১২ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের সপ্তম স্থানে উঠে এল নাইটরা, যা আগামী ম্যাচগুলোর জন্য তাদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।