ইরানের নিউজ রুমে একে-৪৭ নিয়ে লাইভ রাইফেল প্রশিক্ষণ, আমিরশাহীর পতাকায় গুলি চালিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক!
যুদ্ধের আগুনে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এবার যোগ হলো এক নজিরবিহীন ও চরম বিতর্কিত অধ্যায়। ইরানের একটি সরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের নিউজ রুমে লাইভ সম্প্রচার চলাকালীন একে-৪৭ রাইফেল নিয়ে হাজির হলেন খোদ সংবাদ সঞ্চালক। শুধু অস্ত্র প্রদর্শনই নয়, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর জাতীয় পতাকাকে নিশানা করে চলল এলোপাথাড়ি গুলি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে সংবাদমাধ্যমের অন্দরে এমন সহিংস আচরণ বিশ্বজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
নিউজ রুমে অস্ত্রের মহড়া
জানা গেছে, ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম ‘ওফোগ’ চ্যানেলে একটি লাইভ অনুষ্ঠান চলাকালীন এই বেনজির ঘটনাটি ঘটে। ওই বিশেষ পর্বে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি-র এক পদস্থ কমান্ডার। লাইভ সম্প্রচার চলাকালীনই তিনি সঞ্চালককে একে-৪৭ অ্যাসল্ট রাইফেলের একটি বিশেষ মডেল লোড এবং ফায়ার করার বাস্তব প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেন। একইসঙ্গে আমজনতার উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে ওই কমান্ডার দর্শকদের সরকারি সমাবেশের বিশেষ বুথে গিয়ে অস্ত্র প্রশিক্ষণ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধের প্রস্তুতি কতটা জরুরি, তা বুঝিয়ে বলেন।
চরম কূটনৈতিক সংকটের আশঙ্কা
অস্ত্র প্রশিক্ষণের বার্তা দেওয়ার পর মুহূর্তেই স্টুডিওর পরিস্থিতি চরম রূপ নেয়। রাইফেল হাতে তুলে নিয়ে সঞ্চালক সরাসরি সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর জাতীয় পতাকা লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করেন। এই ঘটনার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় এবং আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে। সম্প্রতি আমেরিকা ও ইজরায়েলের পাশাপাশি ইরানের মাটিতে আমিরশাহীও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল বলে খবর চাউর হয়। সেই বৈরিতার জেরে ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলি বর্তমানে যুদ্ধকালীন প্রচার ও সামরিক প্রস্তুতি বিষয়ক অনুষ্ঠানের সংখ্যা এক ধাক্কায় বহু গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। টিভি স্ক্রিনে সঞ্চালকদের রাইফেল হাতে উপস্থিত হওয়া এখন সেখানে নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই ঘটনার অবধারিত প্রভাব পড়তে চলেছে মধ্যপ্রাচ্যের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে। ইরানের সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলির কূটনৈতিক সম্পর্ক এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এর ওপর একটি সরকারি সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেশী দেশের সার্বভৌম পতাকাকে এভাবে অপমান করার ঘটনা দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক দূরত্বকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। একদিকে পরমাণু চুক্তি নিয়ে জটিলতা কাটেনি, অন্যদিকে আমেরিকার নতুন করে হামলার আশঙ্কা— সব মিলিয়ে এই নজিরবিহীন ঘটনাটি জ্বলন্ত মধ্যপ্রাচ্যে ঘৃতাহুতির কাজ করল।