দেশের সুরক্ষায় ঐতিহাসিক পদক্ষেপ, জমি জট পেরিয়ে সীমান্ত সিলেই ভরসা রাখছেন পেট্রাপোলের বাসিন্দারা

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটতেই দীর্ঘদিনের থমকে থাকা সীমান্ত সিল করার প্রক্রিয়া এক ধাক্কায় অনেকটাই গতি পেয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তের এক বিশাল অংশ জুড়ে কাঁটাতার না থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই অনুপ্রবেশ এবং চুরির আশঙ্কায় দিন কাটাতেন সীমান্ত লাগোয়া অঞ্চলের মানুষ। অবশেষে সেই জটিলতা কাটিয়ে বিএসএফ-কে জমি দেওয়ার প্রক্রিয়া পুরোদমে শুরু করেছে রাজ্য সরকার। রবিবার বনগাঁর পেট্রাপোল সীমান্তের কাঁটাতার বিহীন কালিয়ানি এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভাব-অভিযোগ শোনেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। সেখানে দেশের সুরক্ষার স্বার্থে জমি দিতে সানন্দে রাজি হয়েছেন সীমান্তের সাধারণ মানুষ, যা সীমান্ত সুরক্ষায় এক বড় ইতিবাচক মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দীর্ঘদিনের আতঙ্ক বনাম সুরক্ষার আশ্বাস

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের একটি বড় অংশ জুড়ে কাঁটাতার না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রায়শই চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হতো। বাংলাদেশ থেকে ওপাড়ে এসে গরু চুরি বা খেতের ফসল কেটে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা সীমান্ত এলাকায় নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। জমি জটের কারণে এতদিন এই কাঁটাতার দেওয়ার কাজ আটকে থাকলেও, বর্তমান সরকারের আন্তরিকতায় সেই জট কাটতে শুরু করেছে। এদিন খাদ্যমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে গ্রামবাসীরা স্পষ্ট জানান, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে জমি দিতে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। তবে জমির ন্যায্য ও সঠিক মূল্য যাতে তাঁরা পান, সেই দাবিও তুলে ধরেছেন স্থানীয়রা।

প্রশাসনের তৎপরতা ও সম্ভাব্য প্রভাব

গ্রামবাসীদের আশ্বস্ত করে খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া জানিয়েছেন, দেশের সুরক্ষার বিষয়ে সরকার কোনও রকম আপস বা সমঝোতা করবে না। জমির উপযুক্ত মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে ইতিমধ্যে জেলাশাসকের সঙ্গে তাঁর কথাও হয়েছে। তবে বসিরহাট মহকুমার তিনটি মৌজায় জমি নিয়ে কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যা এখনও রয়ে গেছে, যা দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট মহলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত সিল করার এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হলে দুই দেশের সীমান্ত অপরাধ ও অবৈধ অনুপ্রবেশ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে। একই সঙ্গে, সঠিক মূল্যে জমি হস্তান্তর নিশ্চিত হলে প্রশাসনের প্রতি সীমান্তের সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হবে, যা সামগ্রিকভাবে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *