আইএসএল চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণে মহাযুদ্ধ, রবিবাসরীয় ডার্বির টিকিটের হাহাকারে ফুটছে বাংলা
দীর্ঘদিন পর কলকাতা ডার্বিকে ঘিরে ফুটবল উন্মাদনায় কাঁপছে গোটা বাংলা। ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (আইএসএল) চলতি মরশুমের চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণে এই ম্যাচটিই কার্যত ফাইনালের রূপ নিয়েছে। লাল-হলুদ ও সবুজ-মেরুন, দুই প্রধানেরই ২২ পয়েন্ট হলেও গোল পার্থক্যে সামান্য সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের ৬২ হাজার টিকিটের সবটাই ইতিমধ্যেই শেষ। দুই দলেরই হাতে আরও একটি করে ম্যাচ বাকি থাকলেও প্রতিপক্ষের দুর্বলতার কারণে এই রবিবাসরীয় ডার্বির জয়ী দলই ট্রফি ঘরে তুলবে, তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।
কড়া নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বদলের ছোঁয়া
রাজ্যে সাম্প্রতিক সরকার বদলের প্রভাব পড়েছে যুবভারতীতেও। স্টেডিয়ামের শীর্ষ থেকে আগের সরকারের বিশ্ববাংলা লোগো সরিয়ে দ্রুততার সাথে বসানো হচ্ছে অশোক স্তম্ভ। ডার্বি দেখতে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে, যার ফলে মাঠে দর্শক প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়া নজরদারি থাকবে। দর্শকদের ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় পার হয়ে মাঠে ঢুকতে হবে। স্টেডিয়ামে কোনো ধরণের রাজনৈতিক বা বর্ণবিদ্বেষমূলক স্লোগান লেখা টিফো এবং শব্দবাজি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে পুলিশ। ম্যাচের শুরুতে প্রয়াত মোহনবাগান সভাপতি টুটু বোসের স্মৃতির উদ্দেশ্যে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হবে।
মানসিকতা বনাম ব্যক্তিগত দক্ষতার লড়াই
দেড় বছর আগে টেবিলের তলানিতে থাকা ইস্টবেঙ্গলকে চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে এনে কোচ অস্কার ব্রুজো দলের মানসিক পরিবর্তনকেই সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে দেখছেন। সৌভিক চক্রবর্তীর কার্ড সমস্যা এবং ক্রেস্পোর চোট লাল-হলুদ শিবিরের বড় ধাক্কা হলেও, চোট নিয়েই দলের জন্য আনোয়ার আলীর মাঠে নামার মানসিকতা দলকে উদ্বুদ্ধ করছে। অন্যদিকে, মোহনবাগান কোচ সের্জিও লোবেরা প্রতিপক্ষকে নিয়ে না ভেবে দলের ফুটবলারদের ব্যক্তিগত দক্ষতার ওপরই ভরসা রাখছেন। সবুজ-মেরুন শিবিরে চোট সারিয়ে আপুইয়া দলে ফেরায় স্বস্তি ফিরলেও রেফারিং নিয়ে ক্লাব সভাপতি দেবাশিস দত্তের মন্তব্যে মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের পারদ আরও চড়েছে। শেষ পর্যন্ত মাঠের রণকৌশলে কারা বাজিমাত করে, সেদিকেই তাকিয়ে ফুটবল মহল।