শুরু হলো পুণ্য অর্জনের পবিত্র পুরুষোত্তম মাস, জেনে নিন কেন এই সময়ে নিষিদ্ধ শুভ কাজ!

কলকাতা: হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে আজ, ১৭ মে থেকে শুরু হলো ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পুরুষোত্তম মাস। আগামী ৩০ দিন অর্থাৎ ১৫ জুন পর্যন্ত চলবে এই বিশেষ সময়কাল, যা সনাতন ধর্মে ‘মলমাস’ বা ‘অধিক মাস’ নামেও পরিচিত। জ্যোতিষশাস্ত্র ও ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই মাসটি ভগবান বিষ্ণুর আরাধনার জন্য সর্বোত্তম সময়। তবে আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য এই মাসটি যতটা পুণ্যদায়ক, জাগতিক বা শুভ কাজের জন্য একে ততটাই বর্জনীয় বলে মনে করা হয়।

পঞ্জিকার বৈজ্ঞানিক বিন্যাস ও পৌরাণিক গুরুত্ব

জ্যোতিষশাস্ত্রীয় গণনা অনুসারে, সৌর বছরের ৩৬৫ দিন এবং চান্দ্র বছরের ৩৫৪ দিনের মধ্যে প্রতি বছর প্রায় ১১ দিনের একটি ব্যবধান তৈরি হয়। এই সময়ের ভারসাম্য রক্ষা করতেই প্রতি তৃতীয় বছরে পঞ্জিকায় একটি অতিরিক্ত মাস যোগ করা হয়। এই বৈজ্ঞানিক বিন্যাসের কারণেই হিন্দু ধর্মের সমস্ত উৎসব প্রতি বছর সঠিক ঋতুতে অনুষ্ঠিত হতে পারে।

পদ্মপুরাণের একটি আখ্যান অনুযায়ী, সৃষ্টির শুরুতে এই অতিরিক্ত মাসের কোনো অধিপতি দেবতা ছিলেন না। দেবতা না থাকায় একে ‘মলমাস’ বা অশুচি মনে করে মানুষ সমস্ত শুভ কাজ থেকে দূরে থাকত। চারদিকের অবহেলা ও অবজ্ঞায় ব্যথিত হয়ে এই মাসটি ভগবান বিষ্ণুর শরণাপন্ন হয়। ভক্তবৎসল ভগবান হরি তার দুঃখ দূর করতে তাকে নিজের আশ্রয় প্রদান করেন এবং নিজের পরম পূজনীয় নাম ‘পুরুষোত্তম’ দান করেন। সেই থেকে এই মাসটি পুরুষোত্তম মাস হিসেবে পরিচিতি পায়।

পুণ্য সঞ্চয়ের উপায় ও বর্জনীয় বিষয়

ভগবান বিষ্ণুর আশীর্বাদধন্য এই মাসে জপ, তপস্যা এবং দানের ফল সাধারণ দিনের তুলনায় বহুগুণ বেশি মেলে বলে বিশ্বাস করা হয়। আত্মশুদ্ধি ও মনোবাঞ্ছা পূরণের জন্য ভক্তরা এই সময়ে তুলসীর মালা নিয়ে প্রতিদিন অন্তত ১০৮ বার “ওম নমো ভগবতে বাসুদেবায়” অথবা হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করেন। এর পাশাপাশি অভাবীদের অন্ন, বস্ত্র ও অর্থ দান এবং পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠের বিশেষ বিধান রয়েছে।

তবে আধ্যাত্মিকতার মাস হওয়ায় এই সময়ে জাগতিক সুখ ও বিলাসিতা সংক্রান্ত কাজ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে। এই পুরো ৩০ দিন বিয়ে, উপনয়ন (পৈতে) কিংবা গৃহপ্রবেশের মতো কোনো রকম শুভ ও মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান করা হয় না। এমনকি নতুন গাড়ি, বাড়ি বা দামি সোনা-রুপার গয়না কেনার মতো বড় ধরনের কেনাকাটা থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দেন শাস্ত্রজ্ঞরা, যাতে মানুষ বস্তুগত আকর্ষণ এড়িয়ে সম্পূর্ণভাবে ঈশ্বরে চিত্তনিবেশ করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *