আয়ুষ্মান কার্ড থাকলেও পকেট খালি হতে পারে হাসপাতালে! জেনে নিন ৫টি জরুরি শর্ত
দেশের কোটি কোটি মানুষকে চিকিৎসার বিশাল খরচ থেকে স্বস্তি দিতে কেন্দ্র সরকার চালু করেছিল আয়ুষ্মান ভারত যোজনা। এই প্রকল্পের আওতায় বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাওয়া যায়। তবে পকেটে আয়ুষ্মান কার্ড থাকলেই যে সব রোগের চিকিৎসা একেবারে বিনামূল্যে মিলবে, বিষয়টি মোটেও তেমন নয়। এই প্রকল্পের আড়ালে রয়েছে এমন কিছু কঠোর শর্ত ও সীমাবদ্ধতা, যা সাধারণ মানুষের আগে থেকেই জেনে রাখা জরুরি। অসচেতনতার কারণে অনেক সময়ই হাসপাতালের কাউন্টারে গিয়ে সাধারণ মানুষকে বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কা খেতে হচ্ছে।
যেসব চিকিৎসা এই প্রকল্পের বাইরে
এই প্রকল্পের প্রধান শর্ত হলো, রোগী হাসপাতালে ভর্তি না হলে এর কোনো সুবিধা পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ, ওপিডি (OPD)-তে ডাক্তার দেখানো, সাধারণ মাথাব্যথা বা মরসুমি জ্বরের পরামর্শ এবং হাসপাতালে ভর্তি ছাড়া রক্ত পরীক্ষা বা এক্স-রে করানোর মতো প্রাথমিক খরচ রোগীকে নিজের পকেট থেকেই বহন করতে হবে।
এছাড়া দৈনন্দিন ব্যবহারের ওষুধপত্র, শরীরচর্চার ভিটামিন, টনিক বা সাপ্লিমেন্টের খরচ এই স্কিম থেকে পাওয়া যায় না। সাধারণ দাঁতের চিকিৎসা (যেমন ক্যাভিটি ফিলিং বা দাঁত পরিষ্কার), টেস্ট টিউব বেবি (IVF)-এর খরচ এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য কসমেটিক বা প্লাস্টিক সার্জারিও এই বিনামূল্যের চিকিৎসার তালিকা থেকে সম্পূর্ণ বাদ রাখা হয়েছে। মূলত গুরুতর এবং জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসার উদ্দেশ্যেই এই প্রকল্প নকশা করা হয়েছে।
যোগ্যতার কঠোর মাপকাঠি
আর্থিক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে এই স্কিমটি শুধুমাত্র অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারের জন্য সীমাবদ্ধ। কোনো ব্যক্তি যদি সরকারি কর্মচারী হন, নিয়মিত আয়কর প্রদান করেন, চাকরি সূত্রে পিএফ (PF) কাটে কিংবা ইএসআইসি (ESIC)-র আওতাভুক্ত হন, তবে তিনি এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। ফলে কার্ড থাকা সত্ত্বেও নিয়ম না জানার কারণে হাসপাতালের কাউন্টারে গিয়ে শেষ মুহূর্তে বিপাকে পড়ছেন বহু মানুষ। তাই হাসপাতালে যাওয়ার আগে নিজের যোগ্যতা এবং প্রকল্পের নির্দেশিকা ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া আবশ্যক।