ইজরায়েল ছেড়ে নদিয়ার মায়াপুরে, সনাতন ধর্মের রীতিনীতি ও সাত্ত্বিক বডি বিল্ডিংয়ে নেটপাড়ায় সাড়া

সুদূর ইজরায়েল ছেড়ে বাংলায় এসে সনাতন ধর্মের সংস্কৃতি আপন করে নিয়েছেন এক যুবক। বর্তমানে নদিয়ার মায়াপুরের বাসিন্দা এই বিদেশি যুবক কেবল বৈদিক রীতিনীতিই রপ্ত করেননি, বরং সম্পূর্ণ নিরামিষ ও সাত্ত্বিক আহারের মাধ্যমে নিজেকে এক দক্ষ বডি বিল্ডার হিসেবে গড়ে তুলেছেন। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে তাঁর এই অনন্য জীবনযাত্রার ভিডিও প্রকাশিত হতেই তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসার ঝড় তোলে।

মায়াপুরের গুরুকুল থেকে বৈদিক দীক্ষা

জানা গিয়েছে, ২০০৯ সালে সপরিবারে ইজরায়েল ছেড়ে ভারতে আসেন এই যুবক। এরপর তিনি আধ্যাত্মিক নগরী নদিয়ার মায়াপুরে পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করেন। সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে বৈদিক মন্ত্র, সনাতন ধর্মের পূজাপাঠ এবং যজ্ঞের জটিল রীতিনীতি নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষা করেন। ২০২১ সালে তিনি মায়াপুরের গুরুকুল থেকে প্রথাগত স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। বর্তমানে তিনি অনলাইনে যজ্ঞ পরিচালনা, মন্ত্র জপ এবং সনাতন ধর্মের বিভিন্ন আধ্যাত্মিক বিষয়ের ওপর নিয়মিত ভাষণ দিয়ে আসছেন, যা ডিজিটাল দুনিয়ায় বেশ জনপ্রিয়।

সাত্ত্বিক আহার ও বডি বিল্ডিংয়ের মেলবন্ধন

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সম্পূর্ণ নেড়া মাথা, পরনে সাদা ধুতি, গলায় মালা এবং কাঁধে গেরুয়া কাপড় পরিহিত এই যুবক সম্পূর্ণ সনাতন ধর্মের পূজারীর বেশে রয়েছেন। পেশীবহুল চেহারার এই ইজরায়েলি যুবক নিজেকে খাঁটি নিরামিষাশী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর প্রাতরাশের পাতে থাকে শসা, টমেটো, আপেল, টোফু এবং পনিরের মতো সম্পূর্ণ সাত্ত্বিক ও পুষ্টিকর খাবার। কোনো রকম আমিষ বা কৃত্রিম পরিপূরক ছাড়াই কেবল নিরামিষ খাদ্যাভ্যাসের ওপর ভিত্তি করে কীভাবে এমন চমৎকার সুঠাম শরীর গঠন করা সম্ভব, তা তিনি সমাজমাধ্যমে তুলে ধরছেন।

পশ্চিমি সংস্কৃতির মোহ ত্যাগ করে বিদেশি যুবকের এমন কৃচ্ছ্রসাধন এবং বাংলার মাটিতে এসে সনাতন ধর্মের প্রতি এই গভীর অনুরাগ বিশ্বায়নের যুগে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। নেটিজেনদের মতে, এই ঘটনা একদিকে যেমন ভারতীয় সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতাকে পুনরায় প্রমাণ করে, অন্যদিকে তেমনি আধুনিক প্রজন্মের কাছে নিরামিষ আহারের মাধ্যমে সুস্থ ও শক্তিশালী শরীর গঠনের এক ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।

View this post on Instagram

A post shared by Sankalpa Mantra Sadhana (@mantra_saadhana)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *