৯০ শতাংশ পর্যন্ত মৃত্যুহার, বিশ্বজুড়ে বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করে ইবোলা ভাইরাসকে ‘গ্লোবাল হেলথ ইমার্জেন্সি’ ঘোষণা করল WHO

বিশ্বজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ইবোলা ভাইরাস। এই সংক্রমণের ভয়াবহতা বিবেচনা করে ইবোলা ভাইরাসকে ‘গ্লোবাল হেলথ ইমার্জেন্সি’ বা আন্তর্জাতিক উদ্বেগের পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। বর্তমানে আফ্রিকার কঙ্গো ও উগান্ডায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এই সংক্রমণ। ইতিমধ্যেই সেখানে ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং মৃত্যু হয়েছে ৮৮ জনের। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডিরেক্টর-জেনারেল টেড্রোস আধানম গ্রেবিয়াসিস জানিয়েছেন, সংক্রমণটি এখনও করোনার মতো মহামারির পর্যায়ে পৌঁছায়নি এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

সংক্রমণের কারণ ও ভয়াবহতা

ইবোলা অত্যন্ত সংক্রামক এবং প্রাণঘাতী একটি ভাইরাস। মূলত তিনটি ভ্যারিয়েন্ট— ইবোলা ভাইরাস, সুদান ভাইরাস এবং বুন্ডিবুগিও ভাইরাসের মাধ্যমে এই সংক্রমণ ছড়ায়। আক্রান্ত রোগীর শরীরের ফ্লুইড যেমন বমি, রক্ত বা লালার সংস্পর্শে এলে অন্য মানবদেহে এটি ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া বুন্ডিবুগিও ভ্যারিয়েন্টটি অত্যন্ত বিপজ্জনক, কারণ এর নির্দিষ্ট কোনো ভ্যাকসিন বা কার্যকারী চিকিৎসা এখনও আবিষ্কার হয়নি। এই ভাইরাসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে মৃত্যুহার ২৫ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

উপসর্গ এবং সম্ভাব্য প্রভাব

সাধারণত শরীরে ভাইরাস প্রবেশের ২ থেকে ২১ দিনের মধ্যে ইবোলার উপসর্গ দেখা দেয়। প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে তীব্র জ্বর, ক্লান্তি, পেশিতে যন্ত্রণা, মাথা ব্যথা ও গলা ব্যথা দেখা দেয়। সংক্রমণ বাড়লে বমি, ডায়রিয়া, তলপেটে যন্ত্রণা, চামড়ায় র‌্যাশ এবং লিভার-কিডনির কার্যক্ষমতা নষ্ট হওয়ার মতো জটিলতা তৈরি হয়। মারাত্মক পর্যায়ে বমি বা মলের সঙ্গে রক্তপাত হতে পারে। এমনকি এটি মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকেও প্রভাবিত করে, যার ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি বিভ্রান্তি বা হিংস্র আচরণ করতে পারেন।

সঠিক চিকিৎসা ও প্রতিষেধক না থাকায় এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বিশ্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আক্রান্তদের দ্রুত ইনটেনসিভ কেয়ার বা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দিয়েছে। আপাতত পর্যাপ্ত তরল ও পুষ্টি সরবরাহ এবং লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসার মাধ্যমেই রোগীদের সুস্থ করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *