খেতাব জয়ের দোলাচলে কলকাতা ডার্বি, ড্র করে অ্যাডভান্টেজ ইস্টবেঙ্গল হলেও আশা ছাড়ছে না মোহনবাগান
ঐতিহ্যবাহী কলকাতা ডার্বির রোমাঞ্চকর লড়াই শেষ হলো অমীমাংসিতভাবে। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে টানটান উত্তেজনার ম্যাচটি ১–১ গোলে ড্র হওয়ায় লিগ টেবিলের সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠল। এডমুন্ডের গোলে ইস্টবেঙ্গল প্রথমে এগিয়ে গেলেও পরে কামিংসের গোলে সমতায় ফেরে মোহনবাগান। শেষ পর্যন্ত রক্ষণ আঁটসাঁট করে ম্যাচ ড্র করায় খেতাব জয়ের দৌড়ে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে লাল-হলুদ ব্রিগেড। তবে গাণিতিক সমীকরণে এখনও ট্রফির আশা বাঁচিয়ে রাখছে সবুজ-মেরুন শিবিরও।
লাল-হলুদ শিবিরে স্বপ্নপূরণের হাতছানি
টানা নয় ম্যাচ অপরাজিত থাকা ইস্টবেঙ্গল এই ড্রয়ের পর লিগ জয়ের আরও কাছে পৌঁছে গেছে। ম্যাচ শেষে দলের কোচ অস্কার ব্রুজো এবং ফুটবলারদের মধ্যে সেই আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট দেখা গেছে। ম্যাচ শেষে ইস্টবেঙ্গলের গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার মহম্মদ রশিদ জানান, কোনো চাপ নয়, বরং শেষ ম্যাচ জিতলেই চ্যাম্পিয়ন—এই মোটিভেশন নিয়েই তাঁরা মাঠে নামবেন এবং সমর্থকদের জন্য খেতাব জিতবেন। তবে ম্যাচটি ড্র হওয়ায় লাল-হলুদ কর্তা দেবব্রত সরকার কিছুটা আফসোস প্রকাশ করেছেন। কারণ এই ম্যাচটি জিতলে চ্যাম্পিয়নশিপের বিষয়টি এখনই চূড়ান্ত হয়ে যেত। এখন আগামী বৃহস্পতিবার ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচটি ইস্টবেঙ্গলের জন্য কার্যত ফাইনাল হয়ে দাঁড়াল, যেখানে দলের প্রাক্তনী তথা কাশীর কোচ অভিজিৎ মণ্ডল তাঁদের প্রধান বাধা হতে পারেন।
লড়াইয়ে টিকে থাকতে মরিয়া সবুজ-মেরুন
অন্য দিকে, এক গোলে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় মোহনবাগান। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে জেমি ম্যাকলারেন সহজ সুযোগ হাতছাড়া না করলে ম্যাচের ফল অন্যরকম হতে পারত বলে আফসোস করছেন কোচ সের্জিও লোবেরা। এই ড্রয়ের ফলে লিগ জয় কঠিন হলেও দলের অধিনায়ক শুভাশিস বোস এখনও আশা ছাড়ছেন না। শেষ ম্যাচে বড় ব্যবধানে জিতে এবং প্রতিপক্ষের পয়েন্ট নষ্টের দিকে তাকিয়ে অলৌকিক কিছুর অপেক্ষায় আছেন তিনি। সদ্য প্রয়াত প্রাক্তন মোহনবাগান সভাপতি স্বপনসাধন (টুটু) বোসকে এই ট্রফি উৎসর্গ করতে চান শুভাশিস। এদিকে মোহনবাগান সভাপতি দেবাশিস দত্ত একটি নিশ্চিত পেনাল্টি না পাওয়ার অভিযোগ তুলে রেফারিং নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
প্রভাব ও সমীকরণ
এই ড্রয়ের ফলে লিগের ভাগ্য ঝুলে রইল শেষ ম্যাচ পর্যন্ত। ইস্টবেঙ্গল তাদের শেষ ম্যাচে ইন্টার কাশীকে হারাতে পারলে দীর্ঘদিনের লিগ খরা কাটিয়ে চ্যাম্পিয়ন হবে। অন্য দিকে, মোহনবাগানকে কেবল নিজেদের শেষ ম্যাচটি বিশাল ব্যবধানে জিতলেই হবে না, তাকিয়ে থাকতে হবে ইন্টার কাশীর বিপক্ষে ইস্টবেঙ্গলের পয়েন্ট নষ্টের দিকেও। ফলে মরশুমের শেষ লগ্নে এসেও দুই প্রধানের ফুটবলার ও সমর্থকদের উৎকণ্ঠা তুঙ্গে রইল।