নবান্নে মেগা বৈঠকের আগে জনতার দরবারে শুভেন্দু, নজর কাড়ছে চাকরিপ্রার্থীদের ভিড়!

রাজ্যে বিজেপি সরকারের দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার হাইভোল্টেজ বৈঠকের আগে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তৎপরতা দেখালেন বিরোধী দলনেতা তথা শীর্ষ বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ পৌঁছে তিনি সরাসরি আমজনতার মুখোমুখি হন। লকেট চট্টোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই ‘জনতার দরবারে’ প্রথম দিনেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ এবং চাকরিপ্রার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উষ্ণ অভ্যর্থনার মাঝে শুভেন্দু অধিকারী নিজেই সাধারণ মানুষের বিভিন্ন অভাব-অভিযোগ ও দাবিদাওয়ার কথা শোনেন, যা নবান্নের বৈঠকের আগে এক বিশেষ রাজনৈতিক বার্তা বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

জনসংযোগের নেপথ্য কারণ ও সমীকরণ

জনতার দরবারে আসা সিংহভাগ মানুষই ছিলেন রাজ্যের চাকরিপ্রার্থী, যা বর্তমান কর্মসংস্থান সংকটের চিত্রটিকে স্পষ্ট করে তোলে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ঠিক আগে সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শোনা এবং তা নিয়ে নবান্নে যাওয়ার এই কৌশলটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মুখ্যমন্ত্রী আগেই ঘোষণা করেছেন যে নতুন সরকার সুশাসন ও সুরক্ষার পথে হাঁটবে। ফলে প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে সাধারণ মানুষের কণ্ঠ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই শুভেন্দু অধিকারী মন্ত্রিসভার ঠিক আগে এই জনসংযোগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। এখান থেকে উঠে আসা মূল সমস্যাগুলো সরাসরি নবান্নের টেবিলে আলোচনার টেবিলে তুলতে পারেন তিনি।

মন্ত্রিসভার বৈঠকের সম্ভাব্য প্রভাব ও প্রত্যাশা

এই দরবার শেষ করেই শুভেন্দু অধিকারী সোজা নবান্নের উদ্দেশে রওনা দেবেন, যেখানে দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে। এদিনের বৈঠকে আর জি কর কাণ্ড, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির মতো স্পর্শকাতর বিষয়ের পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ এবং পে কমিশন নিয়ে বড়সড় ঘোষণা আসতে পারে। ২০০৮ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বকেয়া মহার্ঘভাতা এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সপ্তম বেতন কমিশন চালুর বিষয়ে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে তুমুল প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে ইতিমধ্যেই আয়ুষ্মান ভারত ও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের মতো একগুচ্ছ কেন্দ্রীয় ও রাজ্যমুখী জনকল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে সোমবারের এই দ্বিতীয় বৈঠকের সিদ্ধান্তসমূহ রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামো এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এক ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *