ছোট থেকেই সন্তানকে বানান হিসেবি, ভবিষ্যতের অর্থকষ্ট এড়াতে মা-বাবার জন্য জরুরি পরামর্শ

বাঙালি পরিবারে সচরাচর সন্তানদের সামনে টাকা-পয়সার আলোচনা করতে দ্বিধাবোধ করেন মা-বাবারা। সন্তান ছোট, তাই এখনই তাকে কেনাকাটা বা জমানোর হিসাব দিতে হবে না—এমন মানসিকতাই অধিকাংশ অভিভাবকের। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই চিরাচরিত ধারণা আদতে ভুল। সন্তানকে কেবল ‘ভালো মানুষ’ নয়, পাশাপাশি ‘হিসেবি মানুষ’ হিসেবে গড়ে তোলাও বর্তমান সময়ের বড় দাবি। শৈশব থেকে সঠিক আর্থিক পাঠ না পেলে ভবিষ্যতে সন্তানকে বড় ধরনের অর্থকষ্টে পড়তে হতে পারে, যা তাদের সঞ্চয়ী মানসিকতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।

হাতে-কলমে আর্থিক পাঠ ও সচেতনতা

সন্তানকে ছোটবেলা থেকেই পকেটের হাল বুঝতে শেখানোর কিছু সহজ অথচ কার্যকর উপায় রয়েছে। মাসের শুরুতে সন্তানকে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের হাতখরচ বা পকেট মানি দেওয়া যেতে পারে। এই নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে সে কীভাবে খরচ করবে বা জমাবে, সেই সিদ্ধান্ত তাকেই নিতে দিতে হবে। এতে মাসের শেষে টাকা ফুরিয়ে গেলে সে নিজেই খরচের লাগাম টানতে শিখবে। এর পাশাপাশি উপহার হিসেবে একটি মাটির ভাঁড় বা পিগি ব্যাঙ্ক দিলে তাদের মধ্যে সঞ্চয়ের আগ্রহ তৈরি হয়।

কেনাকাটার ক্ষেত্রে সন্তানদের ‘প্রয়োজন’ এবং ‘বিলাসিতা’-র মধ্যকার পার্থক্য বোঝানো অত্যন্ত জরুরি। অহেতুক বায়না বন্ধ করতে এবং ধৈর্য ধারণের মানসিকতা তৈরিতে এই জ্ঞান সাহায্য করে। এছাড়া সাপ্তাহিক বাজার বা কেনাকাটার সময় সন্তানদের সাথে রাখা যেতে পারে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্যের দাম ও ওজনের তুলনা করা কিংবা ডিসকাউন্টের হিসাব করানোর মাধ্যমে তারা সাশ্রয়ী কেনাকাটার বাস্তব শিক্ষা লাভ করে।

শ্রমের মূল্য ও লক্ষ্য পূরণের আনন্দ

টাকা উপার্জনের পেছনে যে কঠোর পরিশ্রম জড়িয়ে রয়েছে, তা সন্তানদের ছোট থেকেই অনুধাবন করানো উচিত। ঘরের ছোটখাটো কাজ, যেমন নিজের আলমারি গোছানো বা বাগানের পরিচর্যা করার বিনিময়ে তাকে সামান্য কিছু আর্থিক পুরস্কার দিলে সে শ্রমের মূল্য বুঝতে পারবে। এতে ভবিষ্যতে টাকার অপচয় কমবে।

একইভাবে সন্তান যদি দামি কোনো জিনিস দাবি করে, তবে সম্পূর্ণ টাকা মা-বাবা না দিয়ে কিছু অংশ সন্তানের জমানো টাকা থেকে দিতে বলা উচিত। নিজের কষ্টের জমানো অর্থ খরচ হলে সেই জিনিসের প্রতি যত্ন যেমন বাড়ে, তেমনই লক্ষ্য পূরণের আনন্দও দ্বিগুণ হয়। শৈশবের এই ছোট ছোট অভ্যাসই আগামী দিনে সন্তানদের দায়িত্বশীল ও স্বাবলম্বী নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *