উধাও সোনা পাপ্পু হঠাৎ ইডির দফতরে, ‘আত্মসমর্পণ নয়, দেখা করতে এসেছি’ দাবি সিন্ডিকেট ডনের!

দীর্ঘ টালবাহানা আর লুকোচুরির অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের মুখোমুখি হলেন দক্ষিণ কলকাতার কুখ্যাত সিন্ডিকেট ডন বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পু’। গত ফেব্রুয়ারি মাসে রবীন্দ্র সরোবর এলাকায় একটি বড়সড় গন্ডগোলের পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তিনি। সোমবার আচমকাই সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র দফতরে এসে হাজিরা দেন এই পলাতক অভিযুক্ত। ইডি দফতরে প্রবেশের সময় গ্রেফতারির আশঙ্কার কথা উড়িয়ে দিয়ে আত্মবিশ্বাসী গলায় পাপ্পু দাবি করেন, তিনি কোনো দোষ করেননি এবং আত্মসমর্পণ নয়, বরং দেখা করতে এসেছেন।

বালিগঞ্জের সিন্ডিকেট রাজ ও কোটি কোটি টাকা উদ্ধার

দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ, কসবা ও গড়িয়াহাট চত্বরে প্রোমোটিং সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, বেআইনি জমি দখল, হুমকি, তোলাবাজি এবং অস্ত্র আইনে সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে ভুরি ভুরি অভিযোগ রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ বেআইনি আর্থিক লেনদেনের খোঁজে গত এপ্রিল মাসে পাপ্পুর ডেরায় ম্যারাথন তল্লাশি চালায় ইডি। সেই অভিযানে তাঁর বাড়ি থেকে নগদ প্রায় ২ কোটি টাকা, একটি অত্যন্ত মূল্যবান বিলাসবহুল গাড়ি এবং কোটি কোটি টাকার একাধিক সন্দেহভাজন সম্পত্তির দলিল ও নথিপত্র উদ্ধার হয়। এই বিপুল অঙ্কের টাকা এবং সম্পত্তির উৎস সন্ধানেই দীর্ঘদিন ধরে তাকে খুঁজছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা।

পুলিশকর্তার গ্রেফতারি ও হাওয়ালা যোগের প্রভাব

তদন্তে নেমে ইডি জানতে পারে, পাপ্পুর এই অপরাধের জাল অত্যন্ত গভীরে বিস্তৃত। এই মামলার সূত্র ধরে প্রথমে বেহালার ব্যবসায়ী জয় কামদারকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জেরা করে কলকাতার প্রভাবশালী পুলিশকর্তা শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের নাম উঠে আসে। গত মাসে ফার্ন রোডে ওই পুলিশ আধিকারিকের বাড়িতে হানা দেওয়ার পর, পাপ্পুর অপরাধ চক্রের সঙ্গে সরাসরি যোগ ও আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। এক জন পুলিশকর্তার গ্রেফতারি এই মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ভিন রাজ্যে গা ঢাকা দিয়ে থাকার সময় ‘হাওয়ালা’ মারফত কলকাতা থেকে পাপ্পুর কাছে নিয়মিত মোটা অঙ্কের টাকা পাঠানো হচ্ছিল, যা তার বিলাসবহুল জীবনযাপন সচল রেখেছিল।

মুখোমুখি জেরার প্রস্তুতি

ধৃত ব্যবসায়ী জয় কামদার এবং পুলিশকর্তা শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বয়ানের সূত্র ধরেই সোনা পাপ্পুর সোমবারের এই হাজিরাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল। মাঝেমধ্যে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে সমাজমাধ্যমে ‘লাইভ’ করলেও এতদিন তিনি অধরাই ছিলেন। সোমবার সিজিও কমপ্লেক্সে আসার পর ইডি-র একটি বিশেষ দল তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। ধৃতদের বয়ানের সঙ্গে পাপ্পুর বয়ান মিলিয়ে দেখার প্রক্রিয়া চলছে। অপরাধের এই সিন্ডিকেট সাম্রাজ্যের টাকা আর কোন কোন প্রভাবশালী ব্যক্তির পকেটে গিয়েছে এবং এর নেপথ্যে বড় কোনো রাজনৈতিক যোগসূত্র রয়েছে কি না, এখন সেটাই খতিয়ে দেখছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *