কথা রাখলেন শুভেন্দু, বাংলায় সপ্তম পে কমিশনে সবুজ সংকেত মন্ত্রিসভার

রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পরেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে বড়সড় পদক্ষেপ নিল নতুন সরকার। সোমবার নবান্নে আয়োজিত দ্বিতীয় ক্যাবিনেট বৈঠকে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য সপ্তম পে কমিশন (7th Pay Commission) গঠনে সিলমোহর দিল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৯ দিনের মাথায় সরকারের এই বড় ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই খুশির হাওয়া রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মহলে। বৈঠক শেষে মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের জানান মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। তবে বহুল চর্চিত বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) প্রসঙ্গে এদিন জানানো হয়েছে, বিষয়টি সরকারের এজেন্ডায় থাকলেও আপাতত তা নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

প্রতিশ্রুতি পূরণের তৎপরতা ও পটভূমি

গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর বাংলায় প্রথমবার ক্ষমতায় আসে বিজেপি সরকার। এরপর ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। ভোটের প্রচার পর্বে পদ্মশিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যে রাজ্যে সপ্তম পে কমিশন কার্যকর করা হবে। সেই ‘সংকল্প’ বাস্তবায়নে শুরু থেকেই তৎপরতা দেখিয়েছে নতুন সরকার। দীর্ঘ দিন ধরে ডিএ এবং বেতন বৈষম্য নিয়ে ক্ষুব্ধ থাকা রাজ্য সরকারি কর্মীদের ক্ষোভ প্রশমনেই সরকারের এই দ্রুত সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনা ও অর্থনৈতিক প্রভাব

সাধারণত প্রতি ১০ বছর অন্তর কেন্দ্র ও রাজ্যে নতুন পে কমিশন গঠন করা হয়। রাজ্যে ষষ্ঠ পে কমিশনের মেয়াদ গত ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে। ফলে নতুন পে কমিশন গঠন ছিল সময়ের দাবি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সপ্তম পে কমিশন কার্যকর হলে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন পরিকাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আসবে। কেন্দ্র ও রাজ্যের বেতন কাঠামোর সামঞ্জস্য বজায় রাখতে ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ যদি ২.৯১ থেকে ৩.১৫-এর মধ্যে রাখা হয়, তবে সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন (বেসিক) এক লাফে অনেকটাই বেড়ে যাবে। উদাহরণস্বরূপ, বর্তমানে যার মূল বেতন ১৮ হাজার টাকা, নতুন কাঠামোয় তা বেড়ে ৫২ থেকে ৫৬ হাজার টাকার ঘরে পৌঁছাতে পারে।

তবে এই বিপুল বেতন বৃদ্ধির ফলে রাজ্যের রাজকোষের ওপর কতটা আর্থিক চাপ পড়বে এবং ডিএ-র দাবি কবে নাগাদ মিটবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *