আবাসের টাকা থেকে কাটমানি নিয়ে পঞ্চায়েত সম্মেলন, ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের ঘেরাওয়ের মুখে দুই তৃণমূল নেতা আটক!

কোচবিহারে আবাস যোজনার সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে গরিব গ্রামবাসীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ‘কাটমানি’ আদায়ের মারাত্মক অভিযোগ উঠল স্থানীয় শাসকদলের নেতাদের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার রণক্ষেত্রের রূপ নেয় কোচবিহার-১ ব্লকের ঘুঘুমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের গাংলালের কুঠি এলাকা। শেষমেশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘটনাস্থলে নামতে হয়। ক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে রক্ষা করতে অভিযুক্ত তৃণমূলের বুথ সভাপতি ও এক পঞ্চায়েত সদস্যাকে আটক করেছে পুলিশ।

সম্মেলনের নামে লাখো টাকার তোলাবাজি

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাংলালের কুঠি এলাকার আবাস যোজনার উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ঢোকার পর থেকেই শুরু হয় স্থানীয় নেতাদের জুলুমবাজি। ১৫৮ নম্বর বুথের তৃণমূল সভাপতি প্রতাপচন্দ্র চন্দ এবং পঞ্চায়েত সদস্যা সেলিনা খাতুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা সরকারি ঘর প্রাপকদের কাছ থেকে মাথাপিছু ১ হাজার, ২ হাজার থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জবরদস্তি আদায় করেছেন। নেতাদের মুখে একটাই কথা ছিল, ‘কিছু দাও, তবেই কিছু পাবে’। সোমবার সকাল থেকেই ‘কাটমানি ফেরত চাই’ লেখা পোস্টার হাতে নিয়ে অভিযুক্ত নেতাদের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিষ্ণুপদ ভৌমিকসহ শতাধিক গ্রামবাসী। উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করলে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে বুথ সভাপতি প্রতাপচন্দ্র চন্দ এবং পঞ্চায়েত সদস্যা সেলিনা খাতুনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

উচ্চ নেতৃত্বের ঘাড়েই দায় চাপালেন বুথ সভাপতি

আবাসের টাকা থেকে জোর করে টাকা তোলার বিষয়টি ক্যামেরার সামনে স্বীকার করে নিয়েছেন বুথ সভাপতি প্রতাপচন্দ্র চন্দ। তবে নিজের অপরাধ ঢাকতে দায় চাপিয়েছেন দলের উচ্চ নেতৃত্বের ওপর। তাঁর দাবি, নির্বাচনের তিন মাস আগে দায়িত্ব পাওয়ার পর দল থেকে পঞ্চায়েত সম্মেলন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই সম্মেলনের খরচ জোগাড় করতেই ওপরতলার নির্দেশে আবাস যোজনার উপভোক্তাদের কাছ থেকে এই টাকা তোলা হয়েছে। যদিও অন্য অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্যা সেলিনা খাতুন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি বা তাঁর পরিবারের কেউ কোনো টাকা নেননি।

তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি ও সম্ভাব্য প্রভাব

পঞ্চায়েত সম্মেলনের খরচ মেটাতে সরাসরি সরকারি প্রকল্পের টাকা থেকে কাটমানি নেওয়ার এই স্বীকারোক্তি জেলা রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র অস্বস্তিতে ফেলেছে। লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের নিচুতলার এই দুর্নীতি এবং খোদ বুথ সভাপতির বয়ান বিরোধীদের হাতে বড় অস্ত্র তুলে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই ঘটনার ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়েছে, অন্যদিকে দলের স্বচ্ছ ভাবমূর্তির দাবিও বড়সড় ধাক্কা খেল। উপভোক্তাদের একাংশের আশঙ্কা, এই ধরনের কাটমানি সংস্কৃতির কারণে প্রকৃত গরিব মানুষেরা সরকারি প্রকল্পের পুরো সুবিধা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং এর প্রভাব আগামী দিনে গ্রামীণ স্তরের ভোটব্যাঙ্কেও পড়তে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *