পশু জবাই আইনের ১২ নম্বর ধারা কার্যকরের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে চিঠি বিধায়ক নওসাদের!
রাজ্যে ‘পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০’ কড়াকড়িভাবে মেনে চলার সাম্প্রতিক নির্দেশিকার প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি পাঠালেন আইএসএফ (ISF) বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকী। সোমবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ভাঙড়ের বিধায়ক জানান, এই আইনেরই একটি বিশেষ ধারার কথা উল্লেখ করে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন। ধর্মীয় রীতিনীতি যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেই উদ্দেশ্যেই এই চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
১২ নম্বর ধারার ছাড়পত্রের আবেদন
বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকী স্পষ্ট করে বলেন, ১৯৫০ সালের ওই নির্দিষ্ট আইনের ১২ নম্বর ধারা অনুযায়ী, রাজ্য সরকারের কাছে একটি বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে। এই ধারা মোতাবেক সরকার চাইলে শর্ত সাপেক্ষে যেকোনো প্রাণী ধর্মীয়, চিকিৎসাগত কিংবা গবেষণামূলক কারণে জবাইয়ের ক্ষেত্রে আইনি ছাড় দিতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতির কথা মাথায় রেখে সরকার যাতে এই বিশেষ আইন ও ধারার যথাযথ প্রয়োগ করে, সেই আর্জিই জানিয়েছেন তিনি।
আইনি জটিলতা ও সম্ভাব্য সামাজিক প্রভাব
নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যে গবাদি পশু পাচার ও বেআইনি কসাইখানা বন্ধে ব্যাপক প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। এই আবহে নওসাদ সিদ্দিকীর এই চিঠি রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সামনেই ধর্মীয় উৎসব থাকার কারণে এই আইনি ছাড়ের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। সরকার যদি এই আবেদনে সাড়া দিয়ে ১২ নম্বর ধারা কার্যকর করে, তবে তা এক ধরনের স্বস্তি দেবে; অন্যথায় এই নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে আইনি ও সামাজিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।