পার্ক স্ট্রিট কাণ্ডের দুঁদে অফিসার দময়ন্তী সেনকে বড় দায়িত্বে ফেরালেন শুভেন্দু অধিকারী!
২০১২ সালের বহুল আলোচিত পার্ক স্ট্রিট গণধর্ষণ মামলার নির্ভীক তদন্তকারী অফিসার দময়ন্তী সেনকে ফের বড় দায়িত্বে ফিরিয়ে আনলো রাজ্যের নতুন সরকার। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় দীর্ঘদিন যাবৎ ‘কোণঠাসা’ এবং অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা এই আইপিএস (IPS) আধিকারিককে এবার রাজ্যে নারী নির্যাতনের ঘটনার তদন্তে গতি আনতে গঠিত বিশেষ কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও নারী সুরক্ষায় এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পার্ক স্ট্রিট কাণ্ড ও মমতার জমানায় ‘শাস্তি’
২০১২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে পার্ক স্ট্রিটের একটি নাইটক্লাব থেকে বেরোনোর পর চলন্ত গাড়িতে গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন সুজেট জর্ডন। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনাটিকে ‘সাজানো ঘটনা’ বলে উড়িয়ে দিলেও, কলকাতা পুলিশের তৎকালীন গোয়েন্দা প্রধান (জয়েন্ট সিপি ক্রাইম) দময়ন্তী সেন মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের তোয়াক্কা না করে সাহসিকতার সঙ্গে তদন্ত চালিয়ে অপরাধীদের শনাক্ত করেন। তবে এই নিরপেক্ষ ও নির্ভীক তদন্তের পরেই তাঁকে লালবাজারের গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে ব্যারাকপুরের পুলিশ ট্রেনিং কলেজে বদলি করা হয়েছিল, যা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবেই পরিচিত ছিল।
নতুন কমিটির রূপরেখা ও সম্ভাব্য প্রভাব
শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই রাজ্যে নারী সুরক্ষা এবং অপরাধ দমনে গতি আনতে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ তদন্ত কমিটি বা টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে। এই নতুন কমিটিতেই রাখা হয়েছে দময়ন্তী সেনের মতো অভিজ্ঞ ও সৎ আধিকারিককে। প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন দক্ষ এবং আপসহীন পুলিশ অফিসারকে নারী নির্যাতনের তদন্তভার দেওয়ার মাধ্যমে নতুন সরকার স্পষ্ট বার্তা দিল যে, অপরাধীদের রাজনৈতিক রঙ না দেখে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের সাধারণ মহিলাদের মনে যেমন পুলিশের ওপর আস্থা ফিরবে, তেমনি অপরাধীদের মধ্যেও কড়া প্রশাসনিক ভীতি তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।