আরজি কর কাণ্ডে সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের বড় অনুমতি দিল শুভেন্দু সরকার, সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন পোস্ট মুখ্যমন্ত্রীর!
আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে এবার নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্যের নতুন সরকার। তৎকালীন এই বিতর্কিত সুপারের বিরুদ্ধে আইনি পদ্ধতি অনুযায়ী আদালতে মামলা চালানো এবং দোষী সাব্যস্ত করার আনুষ্ঠানিক অনুমতি (Sanction of Prosecution) প্রদান করেছে রাজ্য। সোমবার (১৮ মে) রাতে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে সরকারি নির্দেশিকাটি পোস্ট করে এই বড় সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন।
‘নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি’, আবেগঘন মুখ্যমন্ত্রী
সামাজিক মাধ্যমে সরকারি নির্দেশিকা শেয়ার করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী লেখেন, “আজ আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে একটি মহতী ও সদর্থক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। গত ৯ই অগস্ট ২০২৪ সালে আর.জি.কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে বোন অভয়ার নৃশংস খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় তৎকালীন আর.জি. কর-এর সুপার কুখ্যাত সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আইনি পদ্ধতি অনুযায়ী ইডি কে উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে দোষী সাব্যস্ত করার অনুমতি প্রদান করা হলো।” বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকার জোরপূর্বক ও অনৈতিকভাবে এই মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া আটকে রেখেছিল বলে অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় এবং সত্যকে চাপা দিয়ে রাখা যায় না। তিনি বোন অভয়ার আত্মার চিরশান্তি কামনা করে দ্রুত কঠোরতম শাস্তির দাবি জানান।
রাজ্যপালের সবুজ সংকেত ও আর্থিক তছরূপের মামলা
রাজ্য সরকারের জারি করা নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে মামলার সমস্ত নথি, তথ্যপ্রমাণ এবং তদন্ত-সংক্রান্ত উপাদান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখার পর পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের কাছে পেশ করা হয়েছিল। রাজভবন থেকে সবুজ সংকেত মেলার পরেই এই আইনি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে আরজি করের সরঞ্জাম কেনাকাটায় ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের তদন্তভার হাতে নেয় সিবিআই (CBI)-এর অ্যান্টি-কোরাপশন ব্রাঞ্চ। পরবর্তীতে এই আর্থিক কেলেঙ্কারিতে ‘প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট’ (PMLA)-এর আওতায় পৃথকভাবে তদন্তে নামে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)।
কঠোর ধারায় চলবে বিচার প্রক্রিয়া
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, সিবিআই ও ইডির পেশ করা যাবতীয় রিপোর্ট এবং এফআইআর বিস্তারিত পরীক্ষা করার পর সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের পথ পরিষ্কার করা হয়েছে। এবার থেকে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS), ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), দুর্নীতি দমন আইন (Prevention of Corruption Act) এবং অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনের (PMLA) সংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুতর ধারায় সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে বিশেষ আদালতে বিচার প্রক্রিয়া চালানো হবে। নতুন সরকারের এই ত্বরিত পদক্ষেপ আরজি কর কাণ্ডের ভুক্তভোগী পরিবারের ন্যায়বিচার পাওয়ার লড়াইকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।