‘তৎকাল বিজেপি বলে কিছু হয় না!’ নব্য বিজেপি ও সিন্ডিকেট মাফিয়াদের একযোগে চরম হুঁশিয়ারি লকেটের

রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর দলবদলু নেতা এবং সিন্ডিকেট-কাটমানি চক্রের বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিলেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। রবিবার হাওড়ার পাঁচলার একটি বিশেষ দলীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ক্ষমতার পরিবর্তনের পর রাতারাতি ভোলবদল করে যাঁরা দলে আখের গোছাতে চাইছেন, তাঁদের কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না। একই সাথে রাজ্যে শুরু হওয়া প্রশাসনিক ‘অ্যাকশন’ নিয়ে বিদায়ী শাসকদলকেও তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। অনুষ্ঠানে পাঁচলা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রঞ্জন পালসহ স্থানীয় নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।

ভোলবদলু ও সুবিধাবাদীদের জন্য বন্ধ পদ্ম শিবিরের দরজা

নির্বাচনে জয়ের পর অন্য দল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার যে হিড়িক লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা নিয়ে দলের অন্দরের ক্ষোভ প্রকাশ করে লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন:

“আমাদের দলে ‘তৎকাল বিজেপি’ বলে কিছু হয় না। যাঁরা রাতারাতি তৃণমূল থেকে কপালে তিলক কেটে, হাতে পতাকা নিয়ে, আবির মেখে আর উত্তরীয় পরে চলে এসেছেন— তাঁদের এখানে কোনো জায়গা নেই। তাঁরা দয়া করে নিজেদের জায়গায় থাকুন। মনে রাখবেন, এখানে চোর, ডাকাত বা কোনো অবৈধ লোকের স্থান হবে না।”

কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরোচ্ছে, সিন্ডিকেট রাজ খতমের বার্তা

রাজ্যে শুরু হওয়া পুলিশ ও কেন্দ্রীয় এজেন্সির সাম্প্রতিক ধরপাকড় প্রসঙ্গে লকেট বলেন, নতুন সরকারের আমলে কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। এখন কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে একে একে বড় বড় কেউটে সাপ বেরিয়ে আসছে। তাঁর সাফ কথা, বিগত সরকারের আমলে যাঁরা শাসক হিসেবে চোর-জোচ্চোরদের অবাধ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন এবং সাধারণ মানুষকে অবহেলা করেছিলেন, জনগণ ভোটবাক্সে তাঁদের যোগ্য জবাব দিয়েছে। নতুন সরকারের আমলে কোনো রকম মাফিয়ারাজ, সিন্ডিকেট, কাটমানি বা মস্তানি বরদাস্ত করা হবে না এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।

ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরানো এবং সম্মান পুনরুদ্ধারের আশ্বাস

বিগত সরকারের জমানায় বিরোধী দলের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হওয়া অত্যাচারের প্রসঙ্গ টেনে লকেট চট্টোপাধ্যায় দাবি করেন, ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক বিধানসভা নির্বাচনের পর বিরোধীদের ওপর কোনো রকম অনৈতিক আঘাত করা হয়নি বা প্রতিশোধমূলক রাজনীতি করা হয়নি। বরং, এতদিন ধরে জোরপূর্বক দখল করে রাখা পার্টি অফিসগুলি প্রকৃত মালিকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।

তিনি সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে জানান, নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাকে দেশের মধ্যে এক নম্বর স্থানে নিয়ে যাওয়া। কোনো মানুষ যাতে আগামী দিনে অবহেলার শিকার না হন এবং প্রত্যেকে যেন নিজের নির্দিষ্ট সম্মান ফিরে পান, তা সুনিশ্চিত করা হবে। একই সাথে, রাজনৈতিক হিংসার কারণে দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা ঘরছাড়া হয়ে রয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে তাঁদের সসম্মানে নিজেদের ঘরে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হবে বলেও তিনি জানান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *