এবার শুভেন্দুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ফরাক্কার মনিরুল, দলে যোগ্য সম্মান না পাওয়ার ক্ষোভ উগরে ছাড়লেন তৃণমূল
রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর মুর্শিদাবাদের জেলা রাজনীতিতে দলবদলের খেলা আরও তীব্র হয়ে উঠল। এবার ভোলবদল করলেন ফরাক্কার প্রাক্তন বিধায়ক মনিরুল ইসলাম। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করার পাশাপাশি বিদায়ী শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করলেন তিনি। দলে যোগ্য সম্মান দেওয়া হয়নি— এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলেই রবিবার সন্ধ্যায় ঘাসফুল শিবির ত্যাগ করেন মনিরুল। নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর ফরাক্কার এই প্রভাবশালী নেতার দলত্যাগের সিদ্ধান্ত ও তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে বর্তমানে মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা ও জল্পনা শুরু হয়েছে।
টিকিট না পেয়ে ক্ষোভ, মমতার হুঁশিয়ারিতে সাময়িক স্বস্তি
মনিরুল ইসলামের এই দলবদল অবশ্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে খুব একটা অপ্রত্যাশিত ছিল না। বিগত বিধানসভা নির্বাচনের টিকিট বণ্টনের সময় থেকেই দলের অন্দরে তাঁর চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। দল থেকে টিকিট না পেয়ে সেই সময় প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন মনিরুল। এমনকি ফরাক্কা কেন্দ্র থেকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে ভোটে দাঁড়ানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি।
তবে সেই সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া ধমক ও হুঁশিয়ারির মুখে পড়ে তিনি নিজের সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হন। টিকিট না পেলেও নিজেকে মমতার ‘একনিষ্ঠ সৈনিক’ দাবি করে সেবার দলেই থেকে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ২০২৬-এর নির্বাচনে তৃণমূলের রাজ্যব্যাপী ভরাডুবির পর আর নিজের ক্ষোভ চেপে রাখেননি এই প্রাক্তন বিধায়ক। রবিবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিক ইস্তফা দিয়ে দল ছাড়েন তিনি।
অভিষেককে তোপ, বিজেপি প্রার্থীর পক্ষে সওয়াল ও শুভেন্দুকে ‘যোগ্য মুখ্যমন্ত্রী’ তকমা
তৃণমূলের এই বিপর্যয়ের পর থেকেই মনিরুলের গলায় ভিন্ন সুর শোনা যাচ্ছিল। দল ছাড়ার ঠিক আগেই তিনি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব ও রণকৌশল নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন। এর পাশাপাশি ফরাক্কার পরাজিত বিজেপি প্রার্থী সুনীল চৌধুরীর সমর্থনেও মুখ খোলেন মনিরুল। প্রকাশ্যেই তিনি দাবি করেন যে, নির্বাচনে জয়ী কংগ্রেসের মাহতাব শেখ নন, বরং সুনীল চৌধুরীই ছিলেন ফরাক্কার সবচেয়ে যোগ্য বিধায়ক পদপ্রার্থী।
রবিবার সন্ধ্যায় শুভেন্দু অধিকারীকে রাজ্যের ‘যোগ্য মুখ্যমন্ত্রী’ বলে অভিহিত করে মনিরুল ইসলাম এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। দলত্যাগের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন:
“সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ একটা ভুল ধারণার বশে বিজেপি থেকে দূরত্ব বজায় রাখছেন। সংখ্যালঘু সমাজ যদি নিজেরা একটু এগিয়ে যায়, তবে বিজেপিও তাদের সমানভাবে ভালোবাসবে ও আপন করে নেবে।”
নীরব জেলা নেতৃত্ব, মুর্শিদাবাদে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত
ভোট-পরবর্তী অধ্যায়ে মুর্শিদাবাদ জেলায় মনিরুলের মতো একজন সংখ্যালঘু নেতার এই দলত্যাগ তৃণমূলের জন্য বড় ধাক্কা বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে মনিরুলের এই ইস্তফা প্রসঙ্গে জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য করা হয়নি। ফরাক্কার প্রাক্তন বিধায়কের এই পদ্ম-মুখী অবস্থান আগামী দিনে মুর্শিদাবাদের আঞ্চলিক রাজনীতিতে কী ধরনের নতুন সমীকরণ তৈরি করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।