‘অন্নপূর্ণা যোজনা’য় দ্বিগুণ অনুদান! প্রকৃত প্রাপক বাছতে কড়া শর্ত, জেনে নিন নতুন ফর্মের খুঁটিনাটি
নিজস্ব প্রতিবেদন: রাজ্য সরকারের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ নিয়ে নতুন নির্দেশিকা! মহিলাদের মাসিক আর্থিক সহায়তা ১৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে দ্বিগুণ করার পরেই, এবার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কঠোর যাচাই প্রক্রিয়া শুরু করল প্রশাসন। বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী এই প্রকল্পের সূচনা করেছেন। তবে নতুন এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে আবেদনকারীদের পূরণ করতে হবে বেশ কিছু কড়া শর্ত।
কী কী তথ্য বাধ্যতামূলক?
‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র নতুন ফর্মে শুধুমাত্র আবেদনকারীর তথ্য নয়, পরিবারের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ চাওয়া হয়েছে। ফর্মে যা যা জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক:
- ব্যাঙ্ক ও IFSC: পরিবারের প্রধানসহ অন্তত ৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের ব্যাঙ্ক ডিটেলস ও IFSC কোড জমা দিতে হবে।
- [Aadhaar Redacted] লিঙ্ক: সরাসরি অ্যাকাউন্টে টাকা (DBT) পাওয়ার জন্য [Aadhaar Redacted]-লিঙ্কড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকা জরুরি।
- পেনশনের তথ্য: পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি পেনশন পেলে তার স্লিপ ও সদস্য নম্বর জমা দিতে হবে।
- ব্যবসায়িক তথ্য: পরিবারের কেউ GST-নিবন্ধিত ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকলে, সেই GSTIN নম্বর ফর্মে উল্লেখ করা আবশ্যক।
- বার্ষিক আয়: পরিবারের মোট বার্ষিক আয়ের স্পষ্ট হিসাব ফর্মে লিখে জানাতে হবে।
কেন এত কড়াকড়ি?
প্রশাসনের মতে, যেহেতু অনুদানের পরিমাণ দ্বিগুণ করা হয়েছে, তাই সরকারি কোষাগারের অর্থের সঠিক বণ্টন নিশ্চিত করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। পরিবারের আর্থিক অবস্থা যাচাই করে ‘টার্গেটেড ডেলিভারি’ নিশ্চিত করতেই এই নতুন ‘ছাঁকনি’ পদ্ধতি। একই পরিবারের কেউ করদাতা বা পেনশনভোগী হলে তারা এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হতে পারবেন না।
প্রশাসনের এই নয়া আর্থিক মডেলের লক্ষ্য, করদাতাদের টাকার অপচয় রোধ করে প্রকৃত অভাবী মহিলাদের হাতে সরকারি সাহায্য পৌঁছে দেওয়া। আগামী তিন মাস প্রতি সপ্তাহে তালিকা যাচাই ও সংশোধন করা হবে বলেও সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। যারা প্রকৃতই এই প্রকল্পের যোগ্য, তাঁদের স্বচ্ছতার সাথে ফর্ম পূরণ করে জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।