শাড়ির ভাঁজে লুকানো ‘গোপন আস্তানা’! তন্তুজ কারখানায় তল্লাশিতে ধরা পড়ল ভোট-হিংসার মূল অভিযুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদন, হাওড়া: পুলিশের চোখে ধুলো দিতে সরকারি বস্ত্র প্রতিষ্ঠান তন্তুজর কারখানার শাড়ির স্তূপের নিচে লুকিয়েও শেষরক্ষা হলো না! উদয়নারায়ণপুরে ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় অভিযুক্ত তৃণমূল কর্মী ব্রহ্মানন্দ চক্রবর্তীকে শনিবার সন্ধ্যায় নাটকীয়ভাবে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। এই গ্রেপ্তারি হাওড়া জেলা তথা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট:

দীর্ঘদিন ধরেই আমতা থানার পুলিশের নজর এড়িয়ে আত্মগোপন করে ছিলেন ব্রহ্মানন্দ চক্রবর্তী। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শনিবার পুলিশ যখন উদয়নারায়ণপুরের তন্তুজর কারখানায় হানা দেয়, তখন সেখানকার পরিস্থিতি ছিল থমথমে। কারখানার একটি নির্দিষ্ট কোণে প্রচুর শাড়ির গাঁঠরি এমনভাবে সাজানো ছিল যা দেখে পুলিশকর্মীদের মনে তীব্র সন্দেহ দানা বাঁধে।

কীভাবে ধরা পড়লেন অভিযুক্ত?

পুলিশের তল্লাশি দল যখন একটি একটি করে শাড়ির গাঁঠরি সরাতে শুরু করে, তখন বেরিয়ে আসে অবাক করা দৃশ্য। ভারী শাড়ির গাঁঠরিগুলোর নিচে টানটান হয়ে শুয়ে গা ঢাকা দিয়েছিলেন ওই তৃণমূল কর্মী। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়েও তিনি নড়াচড়া করার সাহস পাননি। সেখান থেকে তাঁকে টেনে বের করে পুলিশ গ্রেপ্তার করে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য উদয়নারায়ণপুর বিধানসভার পেঁড়ো থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

প্রশাসনের কড়া বার্তা:

রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, ভোট পরবর্তী হিংসার মতো ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ভিত্তিতেই রাজ্যজুড়ে পুলিশের সাঁড়াশি তল্লাশি চলছে।

রাজনৈতিক প্রভাব:

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রহ্মানন্দ চক্রবর্তীর এই নাটকীয় গ্রেপ্তার প্রশাসনিক কঠোরতার বড় প্রমাণ। প্রশাসনের এই ধরপাকড় অভিযানের ফলে অভিযুক্তদের মধ্যে যে প্রবল আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনে হাওড়া জেলাসহ রাজ্যের তৃণমূল স্তরের রাজনীতিতে বড়সড় রদবদল ঘটাতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। অপরাধী যে কোনো সুকৌশলী আস্তানা তৈরি করলেও এখন আর আইনের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না, এই ঘটনা তারই জ্বলন্ত উদাহরণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *