এনআইএ-র সেলে শওকতের রুদ্ধশ্বাস রাত, নেপথ্যে কি অভিষেকের চাল? বিস্ফোরক অভিযোগ পরিবারের!

নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউটাউন: এনআইএ-র নিউটাউন হেডকোয়ার্টার। শনিবার রাতের নিস্তব্ধতায় সেলের ভেতরে পায়চারি করে সময় কাটাচ্ছেন ভাঙড়-কাণ্ডে ধৃত তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লা। বাইরে তখন রাজনীতির অন্দরে চলছে চরম অস্থিরতা। একদিকে জোরালো জেরা, অন্যদিকে আইনি লড়াইয়ের প্রবল চাপ—এই দুইয়ের চাপে শওকতের প্রথম রাতটি কি সত্যিই হয়ে উঠেছিল ‘অগ্নিপরীক্ষা’?

সেলের সেই দীর্ঘ প্রহর:

সূত্রের খবর, নিউটাউনের এনআইএ হেফাজতে শওকতের প্রথম রাত ছিল রীতিমতো বিভীষিকাময়। সেলের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ব্যর্থ প্রাক্তন বিধায়ক। রাতের খাবার হিসেবে জোটেনি কিছুই, কেবল একটি রুটি আর সামান্য তরকারিতেই মিটিয়েছেন ক্ষুধা। সারা রাত চোখের পাতা এক করতে পারেননি তিনি। কখনো করিডোরে পায়চারি, আবার কখনো দীর্ঘশ্বাস—তাঁর শরীরি ভাষা স্পষ্টই বলছে, ভাঙড়-কাণ্ডের সেই ভয়াবহ স্মৃতি তাঁকে তাড়া করে ফিরছে। ভোরে সামান্য তন্দ্রা আর সকালে কেবল চা-বিস্কুট—শওকতের এই করুণ দশা কি কেবল গ্রেপ্তারের ক্লান্তি, নাকি অন্য কোনো অশুভ সংকেত?

পরিবারের নিশানায় অভিষেক:

গ্রেপ্তারের পরপরই শওকতের পরিবারের সদস্যরা যে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন, তাতে কেঁপে উঠেছে তৃণমূলের অন্দরমহল। পরিবারের দাবি, শওকতকে ইচ্ছা করেই ভাঙড়ে ‘বলির পাঁঠা’ করা হয়েছে। তাঁদের স্পষ্ট অভিযোগ, সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জোর করে তাঁকে প্রার্থী করেছিলেন, যদিও শওকত বারবার সেই অনুরোধ ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন।

পরিবারের এই সরাসরি আক্রমণের অর্থ কি ‘ফাঁসিয়ে দেওয়ার’ কোনো গভীর পরিকল্পনা? নাকি এটি নিছকই আবেগ? এই অভিযোগের পর দলের সাংগঠনিক স্তর ও নেতৃত্বের সমীকরণ যে বড়সড় ভাঙনের মুখে পড়তে চলেছে, তা এখন রাজনৈতিক মহলের আলোচনার কেন্দ্রে। দলেরই এক নেতার পরিবার কেন শীর্ষ নেতৃত্বের দিকে আঙুল তুলল? এই প্রশ্নই এখন রাজ্যের রাজনীতিতে সবথেকে বড় সাসপেন্স।

আপনি কি চান এই ধরনের আরও সংবাদের আপডেট দিতে থাকি? আপনার মতামত জানান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *