সন্তানহীনতার ট্রেন্ডে অশনি সংকেত! ভারতের জনসংখ্যা হ্রাস নিয়ে বিস্ফোরক ইলন মাস্ক
নিজস্ব প্রতিবেদন: ১৪৬ কোটির দেশ ভারত কি তবে অদূর ভবিষ্যতে জনশূন্যতার পথে? বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তি ইলন মাস্কের সাম্প্রতিক উদ্বেগ ভারতের জনমিতি বিশেষজ্ঞদের চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করে দিল। তাঁর সতর্কবার্তা—শিক্ষিত সমাজ সন্তান নেওয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, যা দেশের ভবিষ্যতের জন্য এক বড়সড় সংকট ডেকে আনছে।
কেন এই সতর্কতা? জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখার জন্য যে ‘রিপ্লেসমেন্ট লেভেল’ বা প্রতি মহিলার গড়ে ২.১ জন সন্তান জন্মের যে মানদণ্ড, ভারত তা অনেকটাই পেরিয়ে এসেছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, ভারতের মোট প্রজনন হার (TFR) এখন ১.৯। অর্থাৎ, জনসংখ্যা যে হারে বাড়ছে, তা ভারসাম্য রক্ষার জন্য যথেষ্ট নয়। দীর্ঘমেয়াদে এই হার ২.১-এর নিচে থাকলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি উল্টো দিকে হাঁটতে শুরু করে, যাকে অর্থনীতিবিদরা বলছেন ‘ঋণাত্মক প্রজনন হার’।
কী হতে পারে ভারতের ভবিষ্যৎ? মাস্কের এই উদ্বেগের পেছনে লুকিয়ে আছে এক দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা:
- শ্রমশক্তির অভাব: আগামী দিনে কর্মক্ষম যুব জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমতে শুরু করলে ভারতের শিল্প, উৎপাদন এবং পরিষেবা খাতের মেরুদণ্ড ভেঙে পড়তে পারে।
- বয়স্কদের ভার: সমাজে প্রবীণদের সংখ্যা বাড়তে থাকলে সরকারি পেনশন, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতে যে বিপুল ব্যয়ের চাপ তৈরি হবে, তা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
- সামাজিক কাঠামোর পরিবর্তন: ছোট পরিবার এবং সন্তানহীনতার প্রবণতা ভারতীয় যৌথ পরিবারের চিরকালীন কাঠামোকে ওলটপালট করে দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মত: জনমিতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৪ সালের স্যাম্পল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম (SRS) এবং জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারত এখন এক জটিল সন্ধিক্ষণে। ১৪৬ কোটির জনসমুদ্রের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই ‘জনসংখ্যাগত স্থবিরতা’ আগামী দশকের ভারতের অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দেবে।
সরাসরি সন্তান জন্মহারের এই নিম্নমুখী প্রবণতা রোধে সরকার কি কোনো বিশেষ নীতি গ্রহণ করবে? নাকি শিক্ষিত সমাজের এই অনীহাই ভারতের ভবিষ্যৎ জনমিতির গতিপথ বদলে দেবে? এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।