বাড়ির সামনে ‘পর্ক উৎসব’! বিকাশরঞ্জনের বাড়ির সামনে অভিনব প্রতিবাদ, কী বললেন বামনেতা?

নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: ফের বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে আইনজীবী ও বামনেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। এবার তাঁর বাড়ির সামনে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধে ‘পর্ক উৎসব’ বা শুয়োরের মাংস খাওয়ার প্রতিবাদী উৎসব পালনের অভিযোগ উঠল। ধর্মনিরপেক্ষতার বার্তা দিতে গিয়ে অতীতে বিকাশবাবুর গোমাংস খাওয়ার বিতর্কিত ঘটনার পাল্টা জবাব হিসেবেই এই আয়োজন বলে দাবি করেছে ‘জাতির কথা’ নামের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন।

ঠিক কী ঘটেছিল? সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলোতে দেখা যাচ্ছে, অরাজনৈতিক সংগঠনের কয়েকজন যুবক বিকাশরঞ্জনের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে শুয়োরের মাংস খাচ্ছেন। নিজেকে ব্রাহ্মণ পরিচয় দেওয়া এক যুবক চিৎকার করে বামনেতাকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ জানান। যুবকদের অভিযোগ, অতীতে মুসলিম তোষণ করতেই বিকাশবাবু গোমাংস খেয়েছিলেন, তাই এই ‘অপমান’-এর পাল্টা হিসেবেই তারা এই উৎসবের আয়োজন করেছেন।

বিকাশবাবুর শ্লেষাত্মক প্রতিক্রিয়া: নিজের বাড়ির সামনে এমন প্রতিবাদের মুখে পড়েও বিচলিত হননি বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। বরং অত্যন্ত শ্লেষের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি পাল্টা তোপ দেগে লিখেছেন:

“কিছু সনাতনী দাবিদার আমার বাড়ির সামনে এসে শুয়োরের মাংস খেয়ে প্রমাণ করলেন যে, সনাতনী হলে শুয়োর খেতে আপত্তি নেই। স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে চর্চা করলেই বোঝা যেত গরুর মাংস খাওয়ার মধ্যে কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়।”

তিনি বর্তমান প্রজন্মের ‘সনাতনী দাবিদারদের’ বিবেকানন্দের শিক্ষা ও আদর্শের চর্চা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক: এই ঘটনাটি কেবল ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং বৃহত্তর ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এতে সমাজে মেরুকরণের ঝুঁকি বাড়ছে এবং রাজনৈতিক সংঘাতের পরিবেশ আরও জটিল হতে পারে। ব্যক্তিগত আক্রমণের মুখে দাঁড়িয়েও বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের এই কড়া অবস্থান নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *