সন্দেশখালিতে ফের অস্ত্র-ত্রাস! শাহজাহান ঘনিষ্ঠ ৬ গ্রেপ্তার, উদ্ধার বিশাল আগ্নেয়াস্ত্রের ভাণ্ডার
নিজস্ব প্রতিবেদন, সন্দেশখালি: জেলবন্দি শেখ শাহজাহান। কিন্তু তাঁর তৈরি সন্ত্রাসের নেটওয়ার্ক যে সন্দেশখালির মাটি থেকে এখনও পুরোপুরি উপড়ে ফেলা যায়নি, তার প্রমাণ মিলল ফের। উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালিতে রাজ্য পুলিশের এটিএফ (ATF)-এর অভিযানে বিশাল অস্ত্রভাণ্ডারের হদিশ মিলল। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছে ৬ জন, যাদের প্রত্যেকের সাথেই শাহজাহানের ঘনিষ্ঠতার যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে তদন্তকারীরা।
কী কী উদ্ধার হলো?
এনআইএ, রাজ্য পুলিশের এটিএফ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর যৌথ তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে ১৮টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ। গত শনিবার সরবেড়িয়া এলাকায় প্রাক্তন তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি রবীন দাসের ভাই গোপাল দাসের পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে ১৩টি আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়।
কারা জালে?
ঘটনার পর থেকে গোপাল দাস সহ মোট ৬ জনকে জালে তুলেছে এটিএফ। ধৃতদের তালিকায় রয়েছেন রমজান মোল্লা, লুৎফর মোল্লা ও জহর মোল্লা। সূত্রের খবর, রমজান মোল্লা দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীর এক পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী। উল্লেখ্য, অতীতে শেখ শাহজাহানকে আত্মগোপন করতে সাহায্য করার অভিযোগ ছিল রমজান মোল্লার বিরুদ্ধে।
সন্দেশখালিতে ফের আতঙ্কের ছায়া:
শাহজাহান কারাগারে থাকলেও তাঁর অনুগামীরা এখনও সক্রিয় বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অস্ত্র উদ্ধারের এই ঘটনায় নতুন করে সন্দেশখালি জুড়ে ছড়িয়েছে আতঙ্ক। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, প্রভাবশালী ওই নেতার ছত্রচ্ছায়ায় গড়ে ওঠা এই সন্ত্রাসের পরিকাঠামো কি তবে সত্যিই নির্মূল হয়নি?
রাজনৈতিক বিতর্ক:
এই ঘটনায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী পুলিশের তৎপরতাকে স্বাগত জানালেও, অতীতে এই ধরণের অস্ত্র মজুতের রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন। একের পর এক অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় সন্দেশখালির নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা।
সন্দেশখালির মাটি কি তবে ফের অস্ত্রের ঝনঝনানিতে উত্তাল হতে চলেছে? তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আর কী কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।