‘তৃণমূলের দুঃশাসন থেকে মুক্তিই বাংলার দ্বিতীয় স্বাধীনতা’, দমদমে হুঙ্কার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর
নিজস্ব প্রতিবেদন, দমদম: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন সরকারের এক মাস পূর্ণ হওয়ার প্রাক্কালে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দমদমে বিজেপির আয়োজিত একটি রক্তদান শিবির থেকে তিনি ২০২৬ সালের এই পরিবর্তনকে বাংলার ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর কথায়, দীর্ঘদিনের তোষণের রাজনীতি ও স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্তি পেয়েছে বাংলা।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল দিকগুলো:
- আইনের শাসন: শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, রাজ্যে এখন আর শাসকের ইচ্ছেয় আইন চলে না, বরং প্রতিষ্ঠিত হয়েছে প্রকৃত আইনের শাসন। তৃণমূলের বিগত শাসনকালকে তিনি ব্রিটিশ আমলের অত্যাচারের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েই এই দুর্নীতিগ্রস্ত শক্তিকে পরাজিত করেছে।
- উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের গতি: নতুন সরকারের মাত্র ২৮-২৯ দিনের কার্যক্রমের খতিয়ান দিয়ে তিনি জানান:
- অন্নপূর্ণা যোজনা: রাজ্যের প্রায় ৫০ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আর্থিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
- জল জীবন মিশন: পানীয় জলের অভাব দূর করতে প্রকল্পের গতি বাড়ানো হয়েছে।
- প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত: সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর এবং কলকাতা মেট্রো ও ওয়াটার মেট্রো প্রকল্পের দীর্ঘদিনের জট খোলার মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
- নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি: প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, নির্বাচনী সংকল্পপত্রে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত করা হবে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান:
মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বিগত কয়েক দশকে বাম ও তৃণমূল শাসনে বাংলা অর্থনৈতিক ও পরিকাঠামোগতভাবে ব্যাপক পিছিয়ে পড়েছে। এই অনগ্রসরতার কারণ হিসেবে তিনি পূর্বতন সরকারের দুর্নীতি ও বেআইনি কার্যকলাপকে দায়ী করেছেন। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং একাধিক গ্রেপ্তারের মাধ্যমে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে বিরোধী শিবিরে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে, যা তৃণমূলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট বার্তায় জানান, দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই অভিযান আগামী দিনে আরও তীব্রতর হবে।