তোলাবাজি আর গুন্ডামি এবার অতীত, বিধানসভায় আসছে নজিরবিহীন কড়া বিল!
রাজ্যে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা জোরদার করতে আগামী সোমবার বিধানসভায় ‘পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিস বিল’ এবং ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল মেন্টেনেন্স অফ পাবলিক অর্ডার’ বিল পেশ করতে চলেছে সরকার। অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধ, গুন্ডামি দমন এবং তোলাবাজির মাধ্যমে অর্জিত বেআইনি সম্পত্তি ক্রোক করাই এই প্রস্তাবিত বিল দুটির প্রধান লক্ষ্য। নতুন এই আইনের মাধ্যমে অসামাজিক কাজের উৎস বন্ধ করতে পুলিশ ও প্রশাসনকে বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত বিলে ‘গুণ্ডা’ শব্দের স্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করে অপরাধী ও সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর সাজার বিধান রাখা হয়েছে। কোনো অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড এবং অপরাধ দমনে পুলিশকে ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া জেলাশাসক বা পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে অভিযুক্তকে আগাম আটক, এক বছর পর্যন্ত এলাকা ছাড়া বা নির্দিষ্ট এলাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করার ক্ষমতাও থাকছে প্রশাসনের হাতে। এই অপরাধগুলি জামিন অযোগ্য হলেও আটকদের অধিকার রক্ষায় হাইকোর্টের বিচারপতির নেতৃত্বে একটি ‘অ্যাডভাইজারি বোর্ড’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।
সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি, জোরপূর্বক সম্পত্তি দখল এবং খনি, বালি বা বনজ সম্পদের বেআইনি কারবার রুখতেই এই আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। প্রশাসনের আশা, অপরাধীদের বেআইনি সম্পত্তি ক্রোক এবং কঠোর সাজার বিধান কার্যকর হলে রাজ্যে তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনা সম্ভব হবে। পুলিশকে তল্লাশি ও বাজেয়াপ্ত করার ক্ষেত্রে বাড়তি ক্ষমতা প্রদানের মাধ্যমে জননিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা আরও সুসংহত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।