২০৩০-এ পথদুর্ঘটনা মুক্ত পৃথিবী! জাদুকরী দিশা আইআইটি খড়্গপুরের
২০৩০ সালের মধ্যে পথদুর্ঘটনায় মৃত্যু অর্ধেক করার লক্ষ্য আইআইটির, ভরসা বাংলার মডেল
রাজারহাট: ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে পথদুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় নেমেছে আইআইটি খড়্গপুর। গবেষকদের মতে, শুধুমাত্র আইন নয়, বরং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর গতি নিয়ন্ত্রণই প্রাণ বাঁচাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। ২০২৪ সালে দেশে পথদুর্ঘটনায় প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৬২ শতাংশ ক্ষেত্রেই দায়ী অতিরিক্ত গতি। এছাড়া পথচারীদের মৃত্যুর উচ্চ হারও বিশেষ উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এই লক্ষ্য পূরণে আইআইটি খড়্গপুরের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ভার্গব মৈত্রের নেতৃত্বে ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের মেদিনীপুরের বালিহাটি থেকে কোলাঘাট পর্যন্ত ৫১ কিলোমিটার অংশে ‘বৈজ্ঞানিক নকশাভিত্তিক চিকেন ব্যারিকেড’ ও বিশেষ ‘স্পিড ম্যানেজমেন্ট’ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে। এর ফলাফলে গাড়ির গতি ৩৯–৪৫%, ভারী যানের গতি ২৯–৩৩% এবং দু’চাকার যানবাহনের গতি ১৮–২৮% পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। এই পরীক্ষায় দুর্ঘটনার হার ও প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায় পশ্চিমবঙ্গ মডেলটি দেশে প্রথম সফল দৃষ্টান্ত হিসেবে উঠে এসেছে। নিউ টাউনে আয়োজিত এক বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, সিটবেল্ট ব্যবহার এবং সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলার এই মডেল দেশজুড়ে প্রয়োগ করলে ২০৩০-এর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব।