বাংলার নির্বাচনে পরিবর্তনের ডাক দিয়ে আসরে নামল প্রবাসী বাঙালিরা

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজনীতির পারদ চড়ছে। এই আবহে রাজ্যের শাসনব্যবস্থায় বড়সড় রদবদল আনতে এবার ময়দানে নেমেছেন দেশ-বিদেশের প্রবাসী বাঙালিরা। সোমবার সল্টলেকের রাজ্য বিজেপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই প্রবাসী প্রতিনিধি দল রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁদের স্পষ্ট বার্তা, ২০২৬-এর নির্বাচনই পশ্চিমবঙ্গের জন্য আসল ‘টার্নিং পয়েন্ট’।

প্রবাসী বাঙালিদের নতুন সমীকরণ

রাজ্য বিজেপি সভাপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য এই সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে জানান যে, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা বাঙালি ডায়াস্পোরার সঙ্গে বাংলার নাড়ির টান আজও অটুট। তিনি দাবি করেন, প্রবাসীরা বাংলার উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে ইচ্ছুক, কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ তাঁদের পিছু হঠতে বাধ্য করছে। এই কারণেই তাঁরা এবার পরিবর্তনের লক্ষ্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যুক্ত হচ্ছেন।

বিনিয়োগের পথে প্রধান অন্তরায়

ওভারসিজ ফ্রেন্ডস অফ বিজেপির সম্পাদক যুধাজিৎ সেন মজুমদার বর্তমান প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর মতে:

  • গত ৩৪ বছরের বাম শাসন এবং পরবর্তী ১৫ বছরের বর্তমান শাসনে রাজ্যের প্রভূত অবনতি হয়েছে।
  • প্রবাসীরা কৃত্রিম মেধা (AI), আধুনিক ব্যবসা ও বিভিন্ন শিল্পে বিনিয়োগ করতে চাইলেও উপযুক্ত আস্থার অভাব বোধ করছেন।
  • কেন্দ্রের মোদী সরকারের অধীনে আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের মান বাড়লেও, বাংলার মান ক্রমাগত নিম্নমুখী।

পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা ও প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসীদের এই সমর্থন বিজেপির জন্য বাড়তি মাইলেজ তৈরি করতে পারে। যুধাজিৎ সেন মজুমদার জানান, যদি এবার পরিবর্তন না আসে, তবে রাজ্যের ভবিষ্যৎ আরও বড় সঙ্কটের মুখে পড়বে। জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী প্রবাসী বাঙালিরা মনে করছেন, রাজ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের সমার্থক প্রশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে তবেই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরবে।

একঝলকে

  • সল্টলেকের বিজেপি কার্যালয়ে প্রবাসী বাঙালিদের নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন।
  • উপস্থিত ছিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও যুধাজিৎ সেন মজুমদার।
  • ২০২৬-এর নির্বাচনকে রাজ্যের উন্নয়নের ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে বর্ণনা।
  • রাজ্যে বিনিয়োগ ও কৃত্রিম মেধা নিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ প্রবাসীদের।
  • বর্তমান প্রশাসনের প্রতি আস্থার অভাব ও রাজ্যে পরিবর্তনের ডাক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *