রাতে কেন তুচ্ছ বিষয়ও বড় সমস্যা মনে হয়? মনের এই অস্থিরতা কাটানোর বৈজ্ঞানিক সমাধান

দিনের ব্যস্ততা শেষে যখন আমরা বিছানায় গা এলিয়ে দিই, ঠিক তখনই মনের গহিন থেকে উঠে আসে হাজারো দুশ্চিন্তা ও পুরনো স্মৃতি। সারাদিন যে মানুষটি হাসিখুশি ছিলেন, রাতের নির্জনতায় তিনিই হয়তো গভীর মনকষ্টে ভোগেন। মনস্তত্ত্ববিদদের মতে, এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে মস্তিষ্কের গঠনগত জটিলতা এবং হরমোনের সুনির্দিষ্ট প্রভাব। দিনের কোলাহলে মস্তিষ্ক বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকলেও রাতে নিস্তব্ধতার সুযোগে এটি অবদমিত আবেগগুলোকে প্রক্রিয়াকরণ শুরু করে, যা আমাদের মানসিকভাবে ভারাক্রান্ত করে তোলে।

অস্থিরতার নেপথ্যে বিজ্ঞান

রাতের এই মানসিক অস্থিরতার অন্যতম প্রধান কারণ হলো হরমোনের ভারসাম্য পরিবর্তন। দিনের বেলা শরীরকে সচল রাখতে ‘কর্টিসল’ হরমোন সাহায্য করে, কিন্তু রাতে এর মাত্রা কমে গেলে মস্তিষ্ক আবেগের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। একইসাথে মস্তিষ্কের ‘অ্যামিগডালা’ নামক অংশটি রাতে অধিক সক্রিয় থাকায় পুরনো দুঃখ বা ভয়গুলো বড় হয়ে দেখা দেয়। এছাড়া ঘুমানোর আগে মোবাইল ফোনের নীল আলো বা ব্লু-লাইট ‘মেলাটোনিন’ হরমোনের উৎপাদনে বাধা দেয়, যা মস্তিষ্ককে অতি-উত্তেজিত করে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় এবং উদ্বেগ বাড়িয়ে তোলে।

প্রভাব ও উত্তরণের পথ

দীর্ঘদিন ধরে রাতের এই মানসিক চাপ বজায় থাকলে তা অনিদ্রা এবং দীর্ঘমেয়াদী অবসাদের কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা এই সমস্যা সমাধানে ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে ‘উদ্বেগ তালিকা’ বা ডায়েরি লেখার পরামর্শ দেন, যাতে দুশ্চিন্তাগুলো মস্তিষ্ক থেকে কাগজে স্থানান্তরিত হয়। এছাড়া ‘৪-৭-৮’ শ্বাসক্রিয়া পদ্ধতি বা ইতিবাচক চিন্তা অনুশীলনের মাধ্যমে স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করা সম্ভব। ডিজিটাল ডিভাইস থেকে দূরে থেকে মনকে স্থির রাখতে পারলে এই ‘নাইট টাইম অ্যাংজাইটি’ বা রাতের উদ্বেগ থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ হয়।

এক ঝলকে

  • নিস্তব্ধতায় মস্তিষ্ক অবদমিত আবেগ ও পুরনো স্মৃতিগুলো সামনে নিয়ে আসে বলে মন ভারাক্রান্ত হয়।
  • কর্টিসল হরমোনের হ্রাস এবং অ্যামিগডালার সক্রিয়তা রাতকালীন মানসিক সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে দেয়।
  • স্মার্টফোনের ব্লু-লাইট মেলাটোনিন হরমোন কমিয়ে মস্তিষ্ককে অস্থির করে তোলে।
  • ডায়েরি লেখা এবং সঠিক শ্বাসক্রিয়ার ব্যায়াম এই অস্থিরতা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *