খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে যমজ মেয়ের গলা কাটল বাবা! কানপুরের ঘটনায় প্রকাশ্যে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
উত্তরপ্রদেশের কানপুরে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শিউরে উঠেছে গোটা দেশ। নিজের ১১ বছর বয়সী দুই যমজ কন্যাকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করেছে তাদের বাবা শশী রঞ্জন মিশ্র। ঘটনার সময় পাশের ঘরে ৬ বছরের ছেলেকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন মা রেশমা। ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে দুই কন্যাসন্তানকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। অভিযুক্ত পিতাকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সংসারে অশান্তি ও মানসিক অস্থিরতা
তদন্তে জানা গেছে, দীর্ঘ এক দশক আগে উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ির বাসিন্দা রেশমার সাথে শশীর বিয়ে হয়। পেশায় প্রাক্তন মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ শশী সম্প্রতি কর্মহীন হয়ে পড়েছিলেন। তার ওপর মায়ের মৃত্যু ও মদ্যপানের আসক্তি তাকে গভীর অবসাদের দিকে ঠেলে দেয়। সন্দেহবাতিকগ্রস্ত শশী বাড়ির ভেতর সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়ে রাখতেন এবং মাঝেমধ্যেই সন্তানদের নিয়ে আত্মহত্যার হুমকি দিতেন। প্রাথমিক অনুমান, পারিবারিক কলহ এবং আর্থিক অনটনই এই হত্যাকাণ্ডের মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।
পরিকল্পিত এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে
ঘটনার দিন রাতে খাবারের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে সন্তানদের অচেতন করে ফেলেছিল শশী। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করেছে যে, প্রথমে মেয়েদের শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে। ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ সে নিজেই পুলিশকে ফোন করে অপরাধের কথা জানায়। মৃত শিশুদের মা রেশমা পুলিশের কাছে দেওয়া বিবৃতিতে জানান যে, তিনি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকায় এই নৃশংসতার টেরই পাননি, যা তাকে আজীবন অপরাধবোধে দগ্ধ করবে।
এক ঝলকে
- উত্তরপ্রদেশের কানপুরে ১১ বছরের যমজ দুই বোনকে গলা কেটে হত্যা করেছে তাদের বাবা।
- ধৃত ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে কর্মহীন ও মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বলে জানা গেছে।
- খাবারের সাথে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচৈতন্য অবস্থায় শিশুদের ওপর চালানো হয়েছে এই বর্বরতা।
- পুলিশ অভিযুক্ত বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে এবং ঘটনার পেছনে গভীর পারিবারিক কলহের প্রমাণ মিলেছে।