ডিগ্রি বাড়লেও মিলছে না কাজ! পুরুষদের তুলনায় ১৫ গুণ বেশি বেকার বাংলার শিক্ষিত মহিলারা

আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর ইস্তেহারে মহিলাদের জন্য প্রতিশ্রুতির বন্যা বয়ে যাচ্ছে। তবে বাস্তবের পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গে কর্মসংস্থানের বাজারে মহিলাদের অংশগ্রহণ এবং সুযোগের হার উদ্বেগজনকভাবে নিম্নমুখী। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষিত মহিলাদের মধ্যে বেকারত্বের হার যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উচ্চশিক্ষার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে কর্মহীনতা
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যে কম শিক্ষিতদের তুলনায় উচ্চশিক্ষিত মহিলাদের বেকারত্বের হার অনেক বেশি। স্নাতকোত্তর স্তরের মহিলাদের মধ্যে বেকারত্বের হার যেখানে ১৫.৪ শতাংশ, সেখানে সমমানের শিক্ষিত পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ২.৯ শতাংশ। স্নাতক স্তরেও ছবিটা প্রায় একই রকম। অর্থাৎ, ডিগ্রি যত বাড়ছে, মহিলাদের জন্য উপযুক্ত কাজের সুযোগ ততটাই সংকুচিত হচ্ছে। অন্যদিকে, তরুণী বা অল্পবয়সী মেয়েদের মধ্যে বেকারত্বের হার ২০২২ সালের ৫.৭ শতাংশ থেকে লাফিয়ে বেড়ে ২০২৪-২৫ সালে প্রায় ১১.৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বনাম কঠিন বাস্তব
২০২৬-এর ভোটের লড়াইয়ে নেমে শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো আর্থিক সহায়তা বা ভাতার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে স্কিল ডেভেলপমেন্ট বা কৌশল বিকাশ যোজনার মতো একাধিক প্রকল্প চালু থাকলেও উচ্চশিক্ষিত মহিলাদের কর্মসংস্থানে তার প্রভাব সামান্যই। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র সাময়িক আর্থিক ভাতা বা প্রশিক্ষণ দিয়ে এই সংকট মেটানো সম্ভব নয়। বরং চাকরির বাজারে লিঙ্গবৈষম্য দূর করা এবং শিক্ষিত নারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পেশাদার ক্ষেত্র তৈরি করাই এখন প্রশাসনের সামনে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।
এক ঝলকে
- ২০২৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের সামগ্রিক বেকারত্বের হার বেড়ে হয়েছে ১০.৬ শতাংশ, যা জাতীয় গড় ৯.৯ শতাংশের চেয়ে বেশি।
- স্নাতকোত্তর স্তরের মহিলাদের বেকারত্বের হার ১৫.৪ শতাংশ, যা পুরুষদের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি।
- গত ২-৩ বছরে রাজ্যে যুবতীদের মধ্যে বেকারত্ব ৫.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
- সরকারি বিভিন্ন কর্মমুখী প্রকল্প সত্ত্বেও শিক্ষিত নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে না।