স্ত্রী উপার্জন করলেও সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব বাবারই! হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়
স্ত্রী চাকুরিজীবী বা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হলেও সন্তানের লালন-পালনের সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করতে বাবা বাধ্য থাকবেন। সম্প্রতি এক মামলার শুনানিতে এমনই যুগান্তকারী রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি উর্মিলা জোশী-ফালসালকরের নেতৃত্বাধীন একক বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, একজন মা চাকুরির পাশাপাশি যেভাবে সন্তানকে বড় করে তোলেন, সেই ‘মাতৃত্বের’ শ্রমকে কখনও অর্থ দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব নয়।
মাতৃত্বের শ্রম অমূল্য
আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, একজন কর্মজীবী নারী অফিসের দায়িত্ব সামলে ঘরে ফিরে সন্তানের পড়াশোনা, খাবার এবং সংস্কারের পেছনে যে সময় ও শ্রম ব্যয় করেন, তা দুই শিফটে কাজ করার সমান। বাবার আর্থিক স্বচ্ছলতা থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র স্ত্রী উপার্জন করেন—এই অজুহাতে সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব থেকে বাবা হাত ধুয়ে ফেলতে পারেন না। এই যুক্তিতে আদালত ওই সন্তানের মাসিক খোরপোশের পরিমাণ ১৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার নির্দেশ দিয়েছে।
সন্তানের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করার দায়
রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার তিক্ত সম্পর্কের প্রভাব যেন কোনোভাবেই সন্তানের ওপর না পড়ে। প্রতিটি বাবারই নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব তার সন্তানকে শিক্ষিত করে গড়ে তোলা এবং তাকে একটি সুন্দর জীবন উপহার দেওয়া। সন্তানের মানসিক ও আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য পর্যাপ্ত অর্থের যোগান দেওয়া বাবার জন্য বাধ্যতামূলক।
এক ঝলকে
- মা উপার্জন করলেও সন্তানের ভরণপোষণের প্রাথমিক ও প্রধান দায়িত্ব বাবার।
- মায়ের ঘর ও বাইরের দ্বিমুখী শ্রমকে অর্থের মানদণ্ডে বিচার করা যায় না বলে জানিয়েছে আদালত।
- সন্তানের মাসিক খোরপোশের পরিমাণ ১৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- দম্পতির কলহ যেন সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও লালন-পালনে বাধা না হয়, তা নিশ্চিত করতে এই নির্দেশ।