নির্বাচনী বিবাদ গড়াল রক্তাক্ত সংঘর্ষে: জার্মানিতে গুরুদ্বারের ভেতর শিখদের হাতাহাতির ভিডিও ভাইরাল
জার্মানির মোর্স শহরের ডুইসবার্গ এলাকার একটি শিখ গুরুদ্বারে সোমবার এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ধর্মীয় উপাসনালয়ের ভেতরেই দুই পক্ষের মধ্যে এই মারপিট শুরু হয়, যা দ্রুত চরম সহিংসতায় রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্র, কিরপান এবং মরিচের গুঁড়া (পেপার স্প্রে) ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি উপাসনালয়ের ভেতরে গুলি চালানোর শব্দও শোনা গেছে বলে জানা গেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, দুই পক্ষের ধস্তাধস্তিতে পাগড়ি খুলে যাওয়ার মতো নজিরবিহীন ঘটনাও ঘটেছে।
ক্ষমতার লড়াই ও তহবিলের বিরোধ
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, গুরুদ্বারের নতুন পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই এই বিবাদের সূত্রপাত। বর্তমান ও প্রাক্তন সদস্যদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার এবং গুরুদ্বারের তহবিলের (গোলক) নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর প্রাক্তন পরিচালনা পর্ষদ জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করলে এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়। প্রায় ৪০ জন এই সংঘর্ষে লিপ্ত ছিলেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রভাব
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জার্মানি পুলিশ বিশেষ কৌশলগত ইউনিট মোতায়েন করে। তল্লাশিতে ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা উদ্ধার করা হলেও আগ্নেয়াস্ত্রটির হদিস এখনো মেলেনি। তবে পুলিশ ধারণা করছে, সেটি একটি ব্ল্যাঙ্ক-ফায়ারিং পিস্তল হতে পারে। এই ঘটনায় আহত ১১ জনকে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, যদিও তাদের প্রাণহানির কোনো আশঙ্কা নেই। এই সহিংসতা প্রবাসী শিখ সম্প্রদায়ের ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলার পাশাপাশি ধর্মীয় উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
🤯🇩🇪 Shocking scenes from Gurdwara Duisburg, Germany:
— Allen Hampton (@Hamp_Allen) April 20, 2026
Sikhs fighting inside sacred space, turbans flying, kirpans drawn on each other over Golak money, and a forced takeover by the previous management, who lost the election.
This violence isn't random. It's the direct result of… pic.twitter.com/47h4lni6w1
এক ঝলকে
- জার্মানির ডুইসবার্গের একটি গুরুদ্বারে পরিচালনা পর্ষদ ও তহবিল নিয়ে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ।
- কিরপান, ছুরি ও মরিচের গুঁড়া নিয়ে চালানো হামলায় আহত অন্তত ১১ জন।
- পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিশেষ বাহিনী মোতায়েন এবং একজনকে আটক।
- উপাসনালয়ের ভেতরে ব্ল্যাঙ্ক পিস্তল থেকে গুলি চালানোর অভিযোগ খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা বিভাগ।