দ্বিতীয় দফায় নিরক্ষর প্রার্থীর ভিড়, বিধানসভা নির্বাচনে অবাক করা পরিসংখ্যান
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর দ্বিতীয় দফার লড়াই শুরু হওয়ার আগেই এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। প্রার্থীদের জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, প্রথম দফার তুলনায় দ্বিতীয় দফায় নিরক্ষর ও স্বল্পশিক্ষিত প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ইলেকশন ওয়াচ’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই দফায় এমন ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন যারা লিখতে বা পড়তেও জানেন না। নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের এই শিক্ষাগত মান ভোটারদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শিক্ষাগত যোগ্যতার চালচিত্র
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার ১৪২টি আসনের লড়াইয়ে থাকা প্রার্থীদের মধ্যে ৩৯ জন নিজেদের কেবল ‘অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন’ হিসেবে দাবি করেছেন। প্রথম দফায় নিরক্ষর প্রার্থীর সংখ্যা যেখানে ছিল ১৪, দ্বিতীয় দফায় তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬-তে। অন্যদিকে, উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীর সংখ্যাও নেহাত কম নয়। প্রায় ৫০ শতাংশ বা ৭২১ জন প্রার্থী স্নাতক বা তার বেশি শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন। এর পাশাপাশি ২০ জন প্রার্থীর হাতে রয়েছে পেশাদার ডিপ্লোমা ডিগ্রি।
তৃণমূল স্তরে প্রভাব ও কারণ
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক প্রার্থীকে হলফনামায় শিক্ষার মান ঘোষণা করতে হয়। এবারের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, ৪৫ শতাংশ প্রার্থীর শিক্ষা পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে জনভিত্তি বা সাংগঠনিক শক্তির ওপর জোর দিতে গিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতাকে গৌণ হিসেবে বিবেচনা করে। তবে আধুনিক প্রশাসনিক কাঠামো পরিচালনা এবং নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রার্থীর ন্যূনতম শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এক ঝলকে
- দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে ১৬ জন প্রার্থী সম্পূর্ণ নিরক্ষর এবং ৩৯ জন স্বল্পশিক্ষিত।
- প্রায় ৪৫ শতাংশ প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির মধ্যে।
- মোট প্রার্থীর অর্ধেক অর্থাৎ প্রায় ৫০ শতাংশ স্নাতক বা উচ্চশিক্ষিত।
- প্রথম দফার তুলনায় দ্বিতীয় দফায় কম শিক্ষিত প্রার্থীর হার ঊর্ধ্বমুখী।