টিফিন নিয়ে বুলিং, সন্তানের মনের ক্ষত সারাতে মায়ের করণীয় কী?

আধুনিক স্কুলপড়ুয়া শিশুদের মধ্যে ‘লাঞ্চবক্স শেইমিং’ বা টিফিনের ধরন নিয়ে হীনম্মন্যতার প্রবণতা অভিভাবক, বিশেষত মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া বিদেশি ও আকর্ষণীয় টিফিনের ছবি দেখে শিশুরা এখন ঘরোয়া খাবারকে ‘নন-ইনস্টাগ্রামেবল’ বলে মনে করছে, যা তাদের মধ্যে ‘ফোমো’ (FOMO) বা পিছিয়ে পড়ার ভয় তৈরি করছে। এর ফলে একদিকে যেমন অভিভাবকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক ও মানসিক চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে টিফিনের বিষয় নিয়ে সহপাঠীদের উপহাস বা বুলিংয়ের শিকার হতে হচ্ছে অনেক শিশুকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ার সাজানো কনটেন্ট টিফিনবক্সকে একটি স্টেটাস সিম্বলে পরিণত করেছে। মনোবিদরা মনে করেন, ছোটবেলা থেকে ফাস্ট ফুডকে পুরস্কার বা সেলিব্রেশনের অংশ হিসেবে তুলে ধরার প্রবণতা থেকেই শিশুদের মধ্যে ‘ফাসি ফুড বিহেভিয়ার’ বা খুঁতখুঁতে স্বভাব তৈরি হয়। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ডিজিটাল সচেতনতা বৃদ্ধিতে জোর দেওয়া, হুট করে আবদার না মিটিয়ে নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলা এবং নিয়মিত দেশীয় ও পুষ্টিকর খাবারের গুরুত্ব শিশুদের সামনে তুলে ধরার পরামর্শ দিয়েছেন সমাজকর্মী ও মনোবিজ্ঞানীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *