বন্ধুত্ব নাকি মানসিক রোগ? কেন ভারতীয়রা কথায় কথায় গালি দেন—জানাল ‘গালি বন্ধ ঘর’ সমীক্ষা
ভারতে দৈনন্দিন কথাবার্তায় গালিগালাজ বা অপশব্দ ব্যবহারের প্রবণতা নিয়ে সম্প্রতি একটি চাঞ্চল্যকর সমীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ‘সেলফি উইথ ডটার ফাউন্ডেশন’ এবং মহর্ষি দয়ানল বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে ২০১৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পরিচালিত ‘গালি বন্ধ ঘর অভিযান’ এই তথ্য সামনে এনেছে। ড. সুনীল জাগলানের নেতৃত্বে দীর্ঘ ১১ বছর ধরে দেশের প্রায় ৭০ হাজার মানুষের ওপর এই সমীক্ষা চালানো হয়, যেখানে শিক্ষক, চিকিৎসক, পুলিশ এবং শিক্ষার্থীদের মতো বিভিন্ন পেশার মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আঞ্চলিক প্রভাব ও সামাজিক কারণ
সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, অপশব্দ ব্যবহারে ভারতের মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে রাজধানী দিল্লি। এখানকার প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ স্বীকার করেছেন যে তারা দৈনন্দিন জীবনে গালিগালাজ করেন। মূলত অত্যধিক যানজট, প্রতিযোগিতামূলক জীবনযাত্রা এবং মানসিক চাপকে এই অভ্যাসের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, পাঞ্জাব ও হরিয়ানার মতো রাজ্যে বন্ধুত্বের ছলে বা রসিকতার ছলে গালি দেওয়াকে অনেকে সাধারণ বিষয় মনে করেন। উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে পারিবারিক বা রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের সময় অপশব্দের ব্যবহার বেশি দেখা যায়। তবে রাজস্থান বা গুজরাটে শহুরে জীবনের ক্লান্তি ও তরুণ প্রজন্মের ‘স্ল্যাং কালচার’ এই প্রবণতাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে।
নারী ও শিশুদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব
এই প্রতিবেদনে আরও একটি উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী নারীদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ নিয়মিত গালিগালাজ করার কথা স্বীকার করেছেন। গবেষকদের মতে, এটি কেবল পুরুষতান্ত্রিক আচরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং একটি সামাজিক অভ্যাসে পরিণত হচ্ছে। ড. সুনীল জাগলান সতর্ক করেছেন যে, শিশুরা বড় হওয়ার সময় পরিবার বা পরিপার্শ্ব থেকে যখন এই ধরণের ভাষা শেখে, তখন তা তাদের মনে স্থায়ী প্রভাব ফেলে এবং ভবিষ্যতে এটি মানসিক ব্যাধির মতো আচরণে রূপ নেয়। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো ঘরে এবং বাইরে ভাষার পরিশীলিত চর্চা ফিরিয়ে আনা এবং যুব সমাজকে শালীনতা শেখানো।
এক ঝলকে
- ১১ বছর মেয়াদী এই জাতীয় সমীক্ষায় ৭০ হাজার মানুষের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে।
- গালিগালাজ ব্যবহারে দিল্লি প্রথম স্থানে রয়েছে, যেখানে ৮০ শতাংশ মানুষ অপশব্দ ব্যবহার করেন।
- ৩০ শতাংশ নারী এই অভ্যাসে লিপ্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন, যা একটি নতুন সামাজিক প্রবণতা।
- ‘গালি বন্ধ ঘর’ অভিযানের মাধ্যমে ভারতের ৬০ হাজারেরও বেশি স্থানে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হয়েছে।