চিকিৎসাশাস্ত্রে আলোড়ন: প্রথমবার তিন জননাঙ্গ বিশিষ্ট শিশুর হদিস, জানুন এর পেছনের কারণ

ইরাকের উত্তর মোসুলের নিকটবর্তী অঞ্চলে জন্ম নেওয়া এক অদ্ভুত শিশু চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে নতুন বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। শিশুটি তিনটি জননাঙ্গ নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে, যা দেখে খোদ চিকিৎসকরাও হতবাক। সাধারণত অতিরিক্ত হাত বা পায়ের আঙুল নিয়ে জন্মানোর ঘটনা শোনা গেলেও, এমন বিরল শারীরিক বৈশিষ্ট্য এর আগে কখনও নথিবদ্ধ করা হয়নি। চিকিৎসকরা এই ঘটনাকে প্রকৃতির এক অদ্ভুত খেয়াল ও বিরলতম শারীরিক পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ট্রাইফালিয়া

বিজ্ঞানীরা এই অবস্থাকে ‘ট্রাইফালিয়া’ নামে অভিহিত করেছেন। চিকিৎসা সাময়িকী ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ সার্জারি’-তে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির মূল জননাঙ্গ ছাড়া বাকি দুটি অতিরিক্ত অংশের একটি ২ সেন্টিমিটার এবং অন্যটি ১ সেন্টিমিটার দীর্ঘ। তবে এই অতিরিক্ত অংশগুলো কোনো জৈবিক কাজে সক্ষম নয়। ইতিপূর্বে বিশ্বে দুটি জননাঙ্গ নিয়ে জন্মানোর ঘটনা বা ‘ডিফালিয়া’ প্রায় ১০০টির মতো পাওয়া গেলেও, তিনটি জননাঙ্গ বিশিষ্ট মানব শিশু জন্মের ঘটনা এটাই প্রথম।

কারণ ও চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের বিকাশে কোনো গুরুতর জটিলতা অথবা পারিবারিক কোনো জিনগত বৈশিষ্ট্যের কারণে এমন বিরল বিচ্যুতি ঘটতে পারে। বিশ্বজুড়ে প্রতি ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ শিশুর মধ্যে একজনের ক্ষেত্রে এমন অস্বাভাবিকতা দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ইরাকি চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুটির শরীর থেকে অকেজো অতিরিক্ত অংশগুলো সফলভাবে সরিয়ে ফেলা সম্ভব হবে এবং এতে তার স্বাভাবিক জীবনে বড় কোনো প্রভাব পড়ার শঙ্কা নেই।

এক ঝলকে

  • ইরাকে বিশ্বের প্রথম তিন জননাঙ্গ বিশিষ্ট ‘ট্রাইফালিয়া’ আক্রান্ত শিশুর জন্ম।
  • শিশুটির মূল অঙ্গের বাইরে ২ সেমি ও ১ সেমি দীর্ঘ আরও দুটি অতিরিক্ত অংশ রয়েছে।
  • চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এই অতিরিক্ত ও অকেজো অংশগুলো অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
  • জিনগত ত্রুটি বা গর্ভাবস্থায় জটিলতার কারণে প্রতি ৫০-৬০ লক্ষে এমন একটি বিরল ঘটনা ঘটতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *