ব্যক্তিকেন্দ্রিকই কি রাজনীতি? নায়কের কারিশমাতেই কি নির্ধারিত হয় ক্ষমতার ভবিষ্যৎ!
বার্তা ডেস্কঃ
ভারতের রাজনীতির গতিপ্রকৃতি নিগূঢ়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, ১৯৪৭ পরবর্তী সময় থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিটি রাজনৈতিক দলের সাফল্য মূলত একজন কেন্দ্রীয় চরিত্রকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। ভারতীয় সমাজ আবহমানকাল ধরেই ‘হিরো ওরশিপ’ বা ব্যক্তিপূজায় বিশ্বাসী। বিজেপির নরেন্দ্র মোদী, কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী কিংবা তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়—প্রতিটি দলেই একক নেতৃত্বের জনপ্রিয়তাই প্রধান চালিকাশক্তি। সম্প্রতি বিহারের উপনির্বাচনে কোনো স্পষ্ট দলীয় সাংগঠনিক ভিত্তি ছাড়া কেবল প্রশান্ত কিশোরের ব্যক্তিগত কারিশমার জোরে ঐতিহাসিক জয় লাভ কিংবা তামিলনাড়ুতে অভিনেতা বিজয়ের দল ‘টিভিকে’-র উত্থান প্রমান করে যে, একক জনপ্রিয় নায়ক ছাড়া রাজনীতির ময়দানে টিকে থাকা দুঃসাধ্য।
বিপরীতমুখী উদাহরণ হিসেবে লক্ষণীয়, জয়ললিতার প্রয়াণের পর এআইএডিএমকের দিশাহীনতা বা নীতীশ কুমারের রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তায় সংযুক্ত জনতা দলের শক্তি হ্রাস পাওয়া। এমনকি কমিউনিস্ট পার্টির যৌথ নেতৃত্বের তত্ত্ব কিংবা মল্লিকার্জুন খাড়্গের মতো নির্বাচিত সভাপতি থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের কাছে শেষ পর্যন্ত লার্জার-দান-লাইফ ব্যক্তিত্বই সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে ওঠে। তবে ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, নরসিমা রাও ও মনমোহন সিংয়ের মতো কোনো একক ‘নায়ক’ ছাড়া গঠিত সংখ্যালঘু সরকারও দেশের অর্থনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিল। তবুও বর্তমান ভারতের সমাজতাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে স্পষ্ট যে, সাধারণ ভোটাররা কোনো নীতির চেয়ে একজন শক্ত রাজনৈতিক নায়কের ওপর ভরসা রাখতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।