স্বাধীনতার আগেই বড় নাশকতার ছক বানচাল, আইএসআই যোগে ধৃত ৪!
বার্তা ডেস্কঃ
দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের ঠিক প্রাক্কালে বড়সড় জঙ্গি ও গুপ্তচর নেটওয়ার্কের ছক ভেস্তে দিল দেশের গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এক যৌথ অপারেশনে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) এবং ভিনরাজ্যের পুলিশ সমন্বয় রেখে পরিচালনা করে এই অভিযান। উত্তর ২৪ পরগনা ও কোচবিহার কেন্দ্রিক এই চক্রটির কাছ থেকে মেলেনি শুধু সিম পাচারের তথ্য, বরং সরাসরি পাকিস্তানি উগ্রপন্থী সংগঠন ও আইএসআই (ISI)-এর সঙ্গে যোগাযোগের শিহরণ জাগানো তথ্য উঠে এসেছে।
বেঙ্গালুরুর প্রতিরক্ষা সংস্থায় নিরাপত্তারক্ষীর আড়ালে জঙ্গি যোগ
বেঙ্গালুরুর জিগানি শিল্প এলাকার প্রতিরক্ষা সহায়ক সংস্থা ‘টাটা অ্যাডভান্সড লিমিটেড’-এ নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কর্মরত ছিল আসফুল মালিক (২৫)। তার মূল বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার নওপাড়া গ্রামে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে সে সেখানে কাজ করছিল।
নিয়মিত টহলদারির সময় তার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশ তাকে আটক করে। জেরায় আসফুল স্বীকার করে, সে সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন প্ররোচণামূলক বার্তার মাধ্যমে উগ্রপন্থায় প্রভাবিত হচ্ছিল। তদন্তে উঠে আসে, ফেসবুকের মাধ্যমে আফগানিস্তানের বাসিন্দা ইমরান হায়দার নামের এক ব্যক্তির সাথে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল, যে সরাসরি ‘তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান’ (TTP)-এর সাথে যুক্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এমনকি ইমরান হায়দারের মাধ্যমে আফগানিস্তানে গিয়ে সরাসরি জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেওয়ার জন্য ভিসার আবেদনও করেছিল আসফুল। বর্তমানে তার মোবাইলের চ্যাট হিস্ট্রি ও কল রেকর্ড খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
কোচবিহারে আইএসআই ও সীমান্ত পারের সিম পাচার চক্রের পর্দাফাঁস
অন্যদিকে, কোচবিহারের দিনহাটার সাহেবগঞ্জ সীমান্ত এলাকা থেকে রাজ্য পুলিশের STF গ্রেফতার করেছে ৩ সন্দেহভাজনকে। অভিযোগ, ধৃতরা সরাসরি পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা ISI-এর এজেন্ট হিসেবে কাজ করছিল।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রটি অবৈধভাবে ভারতীয় সিম কার্ড সংগ্রহ করে বাংলাদেশ হয়ে পাকিস্তানে পাচার করত। পাশাপাশি তারা আন্তঃসীমান্ত জাল নোট (FICN) কারবারের সাথেও গভীরভাবে যুক্ত ছিল। স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগে এই গ্রেফতারির পর রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং এই চক্রের সাথে কোনো আন্তর্জাতিক ‘স্লিপার সেল’ যুক্ত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।