তারাপীঠ অগ্নিকাণ্ড: মৃত ও আহতদের জন্য বড় ঘোষণা মোদীর!

বার্তা ডেস্কঃ

কলকাতা: শ্রাবণের শেষ সোমবারে বীরভূমের বিখ্যাত তীর্থক্ষেত্র তারাপীঠে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। সোমবার ভোররাতে তারাপীঠ থানার কাছে অবস্থিত একটি বহুতল হোটেলে আচমকাই ভয়াবহ আগুন লেগে যায়। ঘটনার সময় হোটেলের অধিকাংশ পুণ্যার্থী ও অতিথি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তীব্র ধোঁয়ায় চারিদিক ঢেকে যায়। এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৭ জন পুণ্যার্থীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং বহু মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শোক প্রকাশ ও অনুদান ঘোষণা: এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বার্তায় তিনি মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। এর পাশাপাশি, ‘প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল’ (PMNRF) থেকে দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন তিনি। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বতোভাবে সাহায্য করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

ভোররাতের অগ্নিকাণ্ড ও উদ্ধারকাজ: শ্রাবণের শেষ সোমবার উপলক্ষে তারাপীঠ মন্দিরে পুজো দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু ভক্ত সমবেত হয়েছিলেন। তাঁদের অনেকেই মন্দিরের আশেপাশের হোটেল ও লজে অবস্থান করছিলেন। ভোররাতে হঠাতই হোটেলের মধ্যে আগুন দেখতে পাওয়া যায়। ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা অতিথিরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই আতঙ্কে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল বাহিনী। দমকল কর্মী ও উদ্ধারকারীরা পৌঁছায় তৎক্ষণাৎ উদ্ধারকার্য শুরু করেন এবং আগুনে আটকে পড়া অতিথিদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়।

আগুনের কারণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশ্ন: প্রাথমিক অনুমান, বৈদ্যুতিক গোলযোগ বা শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে জোর তদন্ত শুরু হয়েছে। তীর্থযাত্রীদের ভিড়ের মধ্যে এমন বড় ধরণের দুর্ঘটনায় হোটেলগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা (Fire Safety Standards) নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নিরাপত্তা বিধিতে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *