বছরে মাত্র ২৪ ঘণ্টা খুলল দরজা, নাগ পঞ্চমীতে জনসমুদ্র উজ্জয়িনীতে!
বার্তা ডেস্কঃ
নাগ পঞ্চমী ২০২৬ উপলক্ষ্যে মধ্যপ্রদেশের ঐতিহাসিক উজ্জয়িনী শহরে এক অভাবনীয় ধর্মীয় মহোৎসবের দৃশ্য দেখা গেল। বিখ্যাত মহাকাল জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির চত্বরের তৃতীয় তথা সর্বোচ্চ তলে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী নাগচন্দ্রেশ্বর মন্দিরটি বছরের মাত্র ২৪ ঘণ্টার জন্য সাধারণ ভক্তদের দর্শনের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। বছরের বাকি ৩৬৪ দিন এই মন্দিরের প্রবেশের সিঁড়িতে তালা ঝুলানো থাকে।
এ বছর নাগ পঞ্চমী এবং শ্রাবণের তৃতীয় সোমবার একই দিনে হওয়ায় ভক্তদের উন্মাদনা ও আবেগ বহুগুণ বেড়ে গেছে। সেই সঙ্গে একই দিনে দেবাদিদেব মহাদেবের সাওয়ারিও বের হচ্ছে। রবিবার গভীর মধ্যরাতের পর ত্রিকাল পূজার মধ্য দিয়ে মন্দিরের গর্ভগৃহের দরজা উন্মুক্ত করা হয়, যা টানা ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। এই বিরল মহাযোগের কারণে এ বছর প্রায় ৮ থেকে ১০ লক্ষ ভক্তের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা সামাল দিতে স্থানীয় প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
কেন এত অনন্য এই নাগচন্দ্রেশ্বর মন্দির?
মহাকাল মন্দির চত্বরের একদম ওপরের তলে অবস্থিত এই মন্দিরে রয়েছে একাদশ শতাব্দীর এক দুর্লভ ও অদ্ভুত সুন্দর প্রতিমা। সাধারণ ছবিতে ভগবান বিষ্ণুকে শেষনাগের শয্যায় দেখা গেলেও, এই মন্দিরে ভগবান শিব ও দেবী পার্বতীকে একটি কুণ্ডলী পাকানো সাপের ওপর উপবিষ্ট অবস্থায় দেখা যায়, যার ফণা তাঁদের মাথার ওপর বিস্তৃত রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, বহুফণাযুক্ত এই সর্প সিংহাসনে তাঁদের সঙ্গে প্রভু গণেশও বিরাজমান।
ঐতিহাসিক তথ্য ও লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই বিরল মূর্তিটির সংযোগ রয়েছে নেপালের সঙ্গে এবং সেখান থেকেই এটি উজ্জয়িনীতে নিয়ে আসা হয়েছিল। এছাড়াও, বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রের বিশ্বাস অনুযায়ী কালসর্প দোষ কাটানোর জন্য ভক্তরা নাগ পঞ্চমীর দিনে এই মন্দিরে বিশেষ পুজো ও প্রার্থনা নিবেদন করেন।
বিরল যোগ ও প্রশাসনের জোরদার প্রস্তুতি
নাগ পঞ্চমী এবং শ্রাবণী সোমবারের সংযোগে উজ্জয়িনীর মাহাত্ম্য অনেক বেড়ে গেছে। একই দিনে মহাকালের তৃতীয় সাওয়ারি ঐতিহ্যবাহী রাম ঘাটের উদ্দেশে রওনা দেওয়ায় গোটা শহরজুড়ে যেন উৎসবের মেলা বসেছে।
লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর নিরাপত্তা ও সুবিধার কথা মাথায় রেখে উজ্জয়িনী প্রশাসন ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পানীয় জলের সরবরাহ, দিকনির্দেশক পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম এবং সাওয়ারির পুরো পথজুড়ে অতিরিক্ত সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরা বসানো হয়েছে। নাগচন্দ্রেশ্বর মন্দিরের ২৪ ঘণ্টার দরজা খোলার এই ঐতিহ্য এবং শ্রাবণের সোমবারের অপূর্ব সমাপতন উজ্জয়িনীর ধর্মীয় ইতিহাসে এক নতুন ও স্মরণীয় অধ্যায় যুক্ত করল।