আসামের বন্যায় হাহাকার, ১৯৫০-এর সেই ভূকম্পনই কি অভিশাপ?

বার্তা ডেস্কঃ

উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার আসামে প্রতি বছরের মতো এবারও বর্ষার তাণ্ডবে পরিস্থিতি অত্যন্ত সঙ্গীন হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্লাবনের কারণে ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন ৭৫ জন এবং চরাইদেও, শিবসাগর ও জোরহাটসহ একাধিক জেলায় প্রায় ৩.৩২ লাখ মানুষ জলবন্দি হয়ে পড়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী মৃতদের পরিবারপিছু অনুদান বাড়িয়ে ৯ লাখ টাকা করলেও কেবল তাৎক্ষণিক ত্রাণ দিয়ে এই সংকটের উপশম সম্ভব নয়। ভৌগোলিক নিচু অবস্থান, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আকস্মিক অতিবৃষ্টি এবং নির্বিচারে বৃক্ষচ্ছেদন ও নদী দখল এই প্রাকৃতিক দুর্যোগকে আরও বেশি মানবসৃষ্ট বিপর্যয়ে রূপ দিয়েছে।

ঐতিহাসিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই স্থায়ী সংকটের উৎস লুকিয়ে রয়েছে ১৯৫০ সালের আসাম-তিব্বত ভূমিকম্পে, যা ব্রহ্মপুত্র নদ ও তার উপনদীগুলোর গতিপথ ও তলদেশ আমূল বদলে দিয়েছিল। বর্তমানে পুরনো মাটির জরাজীর্ণ বাঁধ ভেঙে লোকালয় প্লাবিত হচ্ছে, যার ফলে নষ্ট হচ্ছে বিপুল কৃষিজমি এবং থমকে যাচ্ছে গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতের সরবরাহ শৃঙ্খল। এই বার্ষিক দুর্যোগ থেকে মুক্তি পেতে হলে নদী ড্রেজিং, আধুনিক প্রযুক্তির বাঁধ নির্মাণ ও জলাভূমি সংরক্ষণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। সমস্যার আসল চিকিৎসা করতে আসামে টেকসই পরিকাঠামো গঠন এবং জলবায়ুভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণই একমাত্র সমাধান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *