জেন-জি মন জয়ে বিজেপির নতুন চাল, যুব মোর্চার নেতৃত্বে হেমং যোশী!

বার্তা ডেস্কঃ

বিশেষ প্রতিনিধি: দেশজুড়ে ‘জেন-জি’ বা নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদের দাবি-দাওয়া ও আন্দোলন যখন রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু, ঠিক তখনই নিজেদের যুব সংগঠনে বড় ধরনের রদবদল করল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ‘ভারতীয় জনতা যুব মোর্চা’ (BJYM)-র জাতীয় সভাপতির পদ থেকে লোকসভা সাংসদ তেজস্বী সূর্যকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর জায়গায় সংগঠনের নতুন জাতীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন গুজরাটের ভদোদরার তরুণ সাংসদ হেমং যোশী

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) আবেগঘন এক বার্তায় তেজস্বী সূর্য লেখেন, ১৪ বছর আগে শহরের এক সাধারণ কর্মী হিসেবে যুব মোর্চায় তাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল। জাতীয় সভাপতির পদে পৌঁছে দেশসেবার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জে.পি. নাড্ডা ও সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক বি.এল. সন্তোষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

কে এই হেমং যোশী? ১৯৯১ সালের ৩১ জানুয়ারি গুজরাটের পোরবন্দরে জন্ম নেওয়া ৩৩ বছর বয়সী হেমং যোশী পেশায় একজন আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ। ২০০৮ সালে ফিজিওথেরাপিতে উচ্চশিক্ষার জন্য ভদোদরার বিখ্যাত মহারাজা সায়াজিরাও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং দীর্ঘ এক দশক ধরে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

২০২২ সালে ভদোদরা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের স্কুল কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর নাগরিক শাসনের কাজ শুরু হয়। এরপর অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে দলীয় রাজনীতিতে তাঁর উত্থান ঘটে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভদোদরা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে তিনি প্রথমবার সাংসদ হন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রতিনিধি হিসেবে বিদেশে পাঠানো সরকারি দলে গুজরাট থেকে একমাত্র তিনিই সুযোগ পেয়েছিলেন। গুজরাট রাজ্য বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালনের পর এবার তাঁকে জাতীয় নেতৃত্বের কেন্দ্রে নিয়ে এল দল।

কেন বেছে নেওয়া হলো হেমং যোশীকে? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, হেমং যোশীকে এই পদের জন্য বেছে নেওয়ার পেছনে বিজেপির সুনির্দিষ্ট কৌশল রয়েছে:

  • বিতর্কমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি: সুশিক্ষিত, মৃদুভাষী ও সুবক্তা হিসেবে পরিচিত হেমং যোশী অহেতুক বিতর্ক এড়িয়ে চলেন।
  • প্রযুক্তি ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি: প্রযুক্তি-সচেতন এই নেতা ভদোদরায় প্রথম “ডিজিটাল এমপি অফিস” তৈরি করে ব্যাপক প্রশংসিত হন। গুজরাটে বিশাল পরিসরে ডিজিটাল সভা আয়োজন করে তিনি অমিত শাহ ও শীর্ষ নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন।
  • বহুভাষী দক্ষ যোগাযোগক: বাংলা/হিন্দি, ইংরেজি ও গুজরাটি ভাষায় সমান দক্ষ হওয়ায় সারা ভারতের তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সহজে মেলবন্ধন তৈরি করতে পারবেন তিনি।

বর্তমানে দেশের তরুণ ও জেন-জি (Gen-Z) প্রজন্মের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে অনুধাবন করে বিজেপিকে যুবসমাজের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করাই হবে নতুন সভাপতি হেমং যোশীর প্রধান চ্যালেঞ্জ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *