১১.৮ বিলিয়ন বছর আগে মিল্কিওয়ের সেই মহাজাগতিক রূপান্তর!

বার্তা ডেস্কঃ

আমাদের বাসস্থান মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির উৎস এবং গঠন নিয়ে এক যুগান্তকারী তথ্য সামনে আনল মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA)। নাসার বিখ্যাত হাবল স্পেস টেলিস্কোপের মাধ্যমে শক্তিশালী প্রমাণ মিলেছে যে, আজ থেকে প্রায় ১১.৮ বিলিয়ন (১,১৮০ কোটি) বছর আগে একটি বিশাল বামন গ্যালাক্সির সঙ্গে মিলন ঘটেছিল আমাদের মিল্কিওয়ের। এই নতুন আবিষ্কারের ফলে আমাদের গ্যালাক্সির ইতিহাসে মহাজাগতিক মিলনের সময়কাল আরও ১.৮ বিলিয়ন বছর পিছিয়ে গেল।

লো-এনার্জি-ক্র্যাকেন-হিরাক্লিস (LKH) গ্যালাক্সির খোঁজ

বিজ্ঞানীদের মতে, যে বামন গ্যালাক্সিটির সঙ্গে মিল্কিওয়ে মিশে গিয়েছিল, গবেষকরা তার নামকরণ করেছেন ‘লো-এনার্জি-ক্র্যাকেন-হিরাক্লিস’ বা সংক্ষেপে এলকেএইচ (LKH)। অনুমান করা হচ্ছে, এই গ্যালাক্সিতে প্রায় ৫০ কোটি সূর্যের ভরের সমান তারা বা নক্ষত্র বিদ্যমান ছিল। মহাবিস্ফোরণ বা ‘বিগ ব্যাং’-এর মাত্র ২ বিলিয়ন বছর পর এই ঐতিহাসিক মিলনটি ঘটেছিল, যা আদি মিল্কিওয়ের বিবর্তন ও গঠনে অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করে।

রহস্য উন্মোচন করল প্রাচীন ‘গ্লোবিউলার ক্লাস্টার’

প্রখ্যাত বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী ‘নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’-তে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, হাবল টেলিস্কোপ মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রের ২০,০০০ আলোকবর্ষের মধ্যে থাকা ৩৯টি ‘গ্লোবিউলার ক্লাস্টার’ বা ঘন তারার স্তবক অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। এই প্রাচীন তারকাস্তবকগুলো মূলত মহাজাগতিক ‘টাইম ক্যাপসুল’ বা রেকর্ডের মতো কাজ করে, যা তাদের উৎপত্তিস্থল গ্যালাক্সির ইতিহাস সংরক্ষণ করে রাখে।

গবেষকরা এই ক্লাস্টারগুলোর বয়স এবং ‘মেটালিসিটি’ (নক্ষত্রে হিলিয়ামের চেয়ে ভারী মৌলিক উপাদানের পরিমাণ) নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। এতে দেখা গেছে, এই তারার দলটি বিখ্যাত ‘গাইয়া-সসেজ-এনসেলেডাস’ মার্জারের সঙ্গে যুক্ত দলটির চেয়েও প্রাচীন, আবার মিল্কিওয়ের একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ের অন্য দলটির চেয়ে কিছুটা নবীন।

গ্যালাক্সি সৃষ্টির নেপথ্যে নতুন সূত্র

এই প্রাপ্ত উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে মহাকাশবিজ্ঞানীদের ধারণা, এই বিশেষ ক্লাস্টারগুলো মূলত এলকেএইচ (LKH) গ্যালাক্সির অংশ ছিল, যাকে পরবর্তীতে মিল্কিওয়ে নিজের মধ্যে বিলীন করে নেয়।

ইতালির বোলোগ্নার অ্যাস্ট্রোফিজিক্স অ্যান্ড স্পেস সায়েন্স অবজারভেটরির প্রধান গবেষক দাভিদে মাসারি জানান, “আমাদের নিজস্ব বাড়ি হলো এই মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি, কিন্তু এই বাড়িটি ঠিক কীভাবে তৈরি হয়েছিল—তা আমরা এতদিন স্পষ্ট জানতাম না।” নাসার মতে, এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে মহাবিশ্বের অন্য প্রান্ত থেকে আসা তারাদের আত্মসাৎ করার মাধ্যমেই মিল্কিওয়ের বিকাশ দ্রুততর হয়েছিল, এবং এই ঘটনাটি পূর্বে যা ভাবা হতো তার চেয়েও অনেক আগে ঘটেছিল।

আজকের এই বিশালাকার স্পাইরাল গ্যালাক্সিতে মিল্কিওয়ে কীভাবে পরিণত হলো, সে বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে এবং মহাবিশ্বের প্রাচীন ইতিহাসের অন্যান্য গ্যালাক্সি মিলনের সূত্র খুঁজে বের করতে গবেষকরা ভবিষ্যতে আরও কিছু গ্লোবিউলার স্টার ক্লাস্টার নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *