মৃত্যুর মুখ থেকে ফেরা! লেজার অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টিতে নতুন জীবন পেলেন প্রবীণ রোগী
বার্তা ডেস্কঃ
ভয়াবহ মাথার যন্ত্রণা, চোখে ঝাপসা দেখা, বুকে কষ্ট, বমি ও মাথা ঘোরার উপসর্গ নিয়ে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন ৬০ বছরের এক প্রবীণ ব্যক্তি। হাসপাতালে পৌঁছানোর পরেই তিনি প্রায় চেতনা হারাতে বসেন। জরুরি বিভাগে তাঁর রক্তচাপ মেপে দেখা যায় ২২০/১২০ mmHg, যা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। একের পর এক উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ দেওয়া হলেও চিকিৎসায় কোনো সাড়া মিলছিল না।
বিষয়টির গাম্ভীর্য বুঝে ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডাঃ সৌম্যকান্তি দত্ত দ্রুত রেনাল অ্যাঞ্জিওগ্রাফি করানোর সিদ্ধান্ত নেন। পরীক্ষার রিপোর্টে ধরা পড়ে আসল সমস্যা—রোগীর বাঁ দিকের কিডনিতে রক্ত সরবরাহকারী প্রধান ধমনীটি থ্রম্বোসিসের কারণে ১০০% অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। ধমনীটি পুরোপুরি বন্ধ থাকায় প্রচলিত বেলুন বা গাইড ওয়্যার প্রবেশ করানো আসাম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
এমন সংকটজনক অবস্থায় ডাঃ দত্ত ও তাঁর বিশেষজ্ঞ দল অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে ‘লেজার-গাইডেড রেনাল আর্টারি অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি’ প্রয়োগ করেন। লেজারের তীব্র আলোকতরঙ্গের মাধ্যমে রক্তনালীর জমাট বাঁধা রক্ত গলিয়ে ধমনীর মুখ বা অস্টিয়াম খুলে দেওয়া হয় এবং সেখানে সফলভাবে একটি স্টেন্ট বসানো হয়।
চিকিৎসার পরেই কিডনিতে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ ফিরে আসে, প্রস্রাব স্বাভাবিক হয় এবং ওষুধের নিয়ন্ত্রণে না আসা রক্তচাপ দ্রুত স্থিতিশীল হয়ে ওঠে। প্রবীণ এই রোগী এখন সম্পূর্ণ সুস্থ ও বিপদমুক্ত। কার্ডিওলজি ও নেফ্রোলজির এই আধুনিক মেলবন্ধন এবং চিকিৎসকদের নিখুঁত পরিকল্পনা কিডনি ও হৃদরোগে আক্রান্ত জটিল রোগীদের চিকিৎসায় এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।