আপনার পকেটের টাকাগুলো কীভাবে তৈরি হয়, জানেন কি?
বার্তা ডেস্কঃ
আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বাজার-ঘাট থেকে শুরু করে যাতায়াতের খরচ—সবক্ষেত্রেই কাগজের নোট ও ধাতব মুদ্রার ব্যবহার অপরিসীম। তবে আপনার পকেটে থাকা এই টাকাগুলো কিন্তু রাতারাতি তৈরি হয়ে আপনার হাতে এসে পৌঁছায় না। এর পেছনে রয়েছে নিখুঁত নকশা তৈরি, নিরাপত্তা বজায় রেখে ছাপানো এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (RBI) মাধ্যমে বাজারে ছাড়ার এক সুশৃঙ্খল ও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া।
কীভাবে তৈরি হয় ধাতব মুদ্রা বা কয়েন? ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তথ্যানুসারে, দেশে কয়েন তৈরির সম্পূর্ণ দায়িত্ব ভারত সরকারের। ২০১১ সালের মুদ্রা আইন অনুযায়ী, কয়েনের নকশা এবং উৎপাদনের সমস্ত ক্ষমতা সরকারের হাতে ন্যস্ত। ভারতের ‘সিকিউরিটি প্রিন্টিং অ্যান্ড মিন্টিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড’ (SPMCIL)-এর অধীনে কলকাতা, মুম্বই, হায়দরাবাদ এবং নয়ডার চারটি মিন্টে (টাকশাল) এই কয়েনগুলি তৈরি করা হয়। উৎপাদনের পর এই মুদ্রাগুলি সরাসরি বাজারে যায় না; প্রথমে তা রিজার্ভ ব্যাঙ্কে জমা হয় এবং সেখান থেকেই আরবিআই সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য বাজারে ছাড়ে।
নোট ছাপানোর বিশেষ ব্যবস্থা কয়েনের তুলনায় ব্যাঙ্কনোট তৈরির প্রক্রিয়া আলাদা। ভারতে নোট ছাপানোর জন্য মোট ৪টি বিশেষ প্রেস রয়েছে:
- নাসিক ও দেওয়াস: এই প্রেস দুটি পরিচালনা করে সিকিউরিটি প্রিন্টিং অ্যান্ড মিন্টিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড (SPMCIL)।
- মাইসোর ও শালবনি: এই দুটি প্রেস সরাসরি আরবিআই-এর অধীনস্থ সংস্থা ‘ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক নোট মুদ্রণ প্রাইভেট লিমিটেড’ (BRBNMPL) দ্বারা পরিচালিত হয়।
নোট বাজারে ছাড়ার আইনি নিয়ম আইন অনুযায়ী, ভারতে ব্যাঙ্কনোট ইস্যু করার একক ক্ষমতা রয়েছে কেবল আরবিআই-এর। তবে নোটের আকার, নকশা এবং উপাদানের বিষয়ে আরবিআই সুপারিশ করলে কেন্দ্রীয় সরকার তা অনুমোদন করে। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চাহিদার ওপর নির্ভর করে আরবিআই প্রতি বছর হিসাব কষে ছাপানো কারখানাগুলিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ নোট ছাপানোর অর্ডার দেয়।
ভারতবর্ষের নোট ও মুদ্রার আলাদা এক মর্যাদা রয়েছে। টাকার আন্তর্জাতিক প্রতীক ‘₹’ দেবনাগরী ‘র’ এবং ল্যাটিন ‘R’-এর সমন্বয়ে গঠিত, যা বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। বাজারে মুদ্রার গুণমান ঠিক রাখতে আরবিআই ‘ক্লিন নোট পলিসি’ (Clean Note Policy) অনুসরণ করে। এই নীতির মাধ্যমে জীর্ণ ও ছেঁড়া নোট বাজার থেকে তুলে নিয়ে ধ্বংস করা হয় এবং কেবল ভালো মানের নোটই বাজারে রাখা হয়। ফলে আপনার পকেটে থাকা এই টাকাটি কেবল এক টুকরো কাগজ নয়, বরং এক বিশাল নিরাপত্তা ও উৎপাদন ব্যবস্থার প্রতীক।