৩১টি বাদ্যযন্ত্রে একাই বাজিমাত, তবুও রাজনীতির শিকার মেদিনীপুরের রঞ্জন জানা!
বার্তা ডেস্কঃ
মেদিনীপুর: এআর রহমান কিংবা প্রয়াত বাপি লাহিড়ীর মতো খ্যাতনামা সঙ্গীত পরিচালকদের সুরের জাদুতে সবাই মুগ্ধ। কিন্তু যিনি একাই একসঙ্গে ৩১টি ভিন্ন বাদ্যযন্ত্র নিখুঁতভাবে বাজাতে পারেন, মেদিনীপুরের কোতোয়ালির সেই রঞ্জন জানার খবর ক’জন রাখেন? কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই কেবল সাধনার জোরে বিশ্বজুড়ে বাঁশির সুর ছড়িয়ে দেওয়া এই প্রবীণ শিল্পী আজ চরম আক্ষেপ ও বঞ্চনায় দিন কাটাচ্ছেন।
ছোটবেলায় মেলা থেকে কেনা একটি বাঁশি দিয়েই রঞ্জনের সুরের পথচলা শুরু। এরপর যাত্রা ও নাটকের বাজিয়েদের অনুকরণ করে নিজে নিজেই আয়ত্ত করে ফেলেন একে একে ৩১টি বাদ্যযন্ত্র। পরবর্তীতে কিংবদন্তি অভিনেতা রবি ঘোষের সঙ্গে সিনেমায় বাঁশি বাজানোর সুযোগ পান তিনি। এরপর মুম্বইয়ের কনসার্টে গায়ক এসপি বালাসুব্রহ্মণ্যম, উস্তাদ আমজাদ আলি খান, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি শংকরদয়াল শর্মা থেকে শুরু করে তৎকালীন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী—সবার ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি।
শিল্পের খাতিরে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে একসময় তাঁকে শালবনিতে শিশুদের বাঁশি শেখানোর একটি সরকারি চাকরি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রঞ্জনবাবুর অভিযোগ, রাজনীতির শিকার হয়ে সেই চাকরিটি তাঁকে হারাতে হয়। লোকসভা নির্বাচনের সময় একটি মিছিলে তাঁর গলায় রাজনৈতিক দলের মালা পরিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করেই এই জটিলতা তৈরি হয় এবং তাঁর চাকরি চলে যায়।
নিজে কষ্টে থাকলেও রঞ্জন জানা আজীবন মানবতার সেবা করে গেছেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠান থেকে উপার্জিত অর্থের একটা বড় অংশ তিনি গরিব মানুষের চিকিৎসা, পড়াশোনা ও সামাজিক কাজে দান করে দেন।
বর্তমানে জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে এই গুণী শিল্পীর একটাই আক্ষেপ—তাঁর ছোট ঘরে ৩১টি মূল্যবান বাদ্যযন্ত্র যত্ন করে রাখার মতো জায়গা নেই, ফলে সাধের যন্ত্রগুলোতে মরচে ধরতে শুরু করেছে। সরকারের কাছে তাঁর আকুল আবেদন, এই অমূল্য বাদ্যযন্ত্রগুলো বাঁচিয়ে রাখতে যদি একটি ছোট সংগ্রহশালা বা মিউজিয়াম তৈরি করে দেওয়া হয়, তবেই তাঁর সারাজীবনের সাধনা পূর্ণতা পাবে।